September 5, 2026

পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই লাদাখে বাঁধ দিলো ভারত

0
chenab-mthcdtc347y5333-20260831203742.jpg


পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই লাদাখে সিন্ধুনদের ওপর পাথরের বাঁধ দিলো ভারত। লেহর উপশি এলাকায় নির্মিত এ বাঁধে প্রায় চার কোটি লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়লেও পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বড় পাথর ব্যবহার করে তৈরি বাঁধটিতে কোনো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধের কারণে নদীর পানির স্তর প্রায় ১০ ফুট বেড়ে গেছে। ফলে, বসন্ত মৌসুমে পানির সংকটে থাকা লাদাখের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া সহজ হচ্ছে। সংরক্ষিত পানি ইগু ফে সেচ খালের মাধ্যমে আশপাশের কৃষিজমিতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, লাদাখের কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে সেচের পানির সংকটে ভুগছিলেন। গভীর গিরিখাত দিয়ে সিন্ধু নদ প্রবাহিত হওয়ায় অনেক এলাকায় নদীর পানির স্তর এত নিচে নেমে যেত যে পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা কঠিন হয়ে পড়ত। নতুন বাঁধটি সেই সংকট কমাতে তৈরি করা হয়েছে।

তবে, পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি শুধু লাদাখের কৃষি বা স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিন্ধু নদ পাকিস্তানের কৃষি ও পানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে নদীগুলোর পানি ব্যবহারের কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর একতরফাভাবে চুক্তিটি স্থগিত করে ভারত। ওই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে ভারত। তবে পাকিস্তান তা সরাসরি অস্বীকার করে। এরপরই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও পানি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

চুক্তির বর্তমান অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। গত ৩১ আগস্ট দ্য হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত বলেছেন, ভারতকে সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় থাকা বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। আদালত চুক্তিটি একতরফাভাবে স্থগিত করার ভারতের সিদ্ধান্তকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছে।

তবে, ভারত ওই সালিশি আদালতের এখতিয়ার ও সিদ্ধান্ত অস্বীকার করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে লাদাখে সিন্ধু নদের পানি ধরে রাখতে ভারতের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ পাকিস্তানের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমআরএইস/কেএএ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *