September 5, 2026

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড কারা, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

0
bnp-mtoh7296o6m7kzp-20260905202933.jpg


২০২৪ সালের আন্দোলনের সফলতার মূল কারিগর এ দেশের জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বরাবরই আমরা বলেছি, ২৪-এর আন্দোলনের সফলতার মাস্টারমাইন্ড এ দেশের জনগণ। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই আন্দোলন সফল করেছিল।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরে আমরা কী দেখেছি? বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই নির্বাচন যখন সামনে হাজির হয়েছিল, তখন দেশের জনগণই এর সাক্ষী। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, বর্তমানেও আছে। আমরা অনেক কিছু চেয়েছি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে আমরা সেগুলো সফলভাবে করতে পারিনি।

তারপরও সবকিছুর বিচার-বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যদি কোনো রাজনৈতিক দল থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম বিএনপি। দেশের মানুষের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, সেটি যদি কোনো রাজনৈতিক দল নিশ্চিত করে, যুগ যুগ ধরে মানুষ দেখেছে সেই রাজনৈতিক দলটির নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

এ কারণেই আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, দেশের মানুষের কাছে এবং একইভাবে আন্তর্জাতিকভাবে যে কয়েকটি নির্বাচন নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।

‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই’

তারেক রহমান বলেন, আমরা বরাবরই চেষ্টা করেছি। দলের সৃষ্টির প্রথম থেকেই আমাদের চেষ্টা ও লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করা এবং দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সমুন্নত রাখা। আমি এখনো দৃঢ়ভাবে সেটি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এই গণতন্ত্রের জন্যই আমাদের হাজারো নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, আমরা একই সঙ্গে বলি, আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই। আমরা দেশে এমন একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ তার কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়বে না।

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার জাতীয়তাবাদী শক্তির সব নেতাকর্মীকে আহ্বান করব, আসুন আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে আমরা উন্মুক্ত করে দিই।

কারণ, এই যে গুপ্তবাহিনী- এরা একাত্তর সাল থেকে আমরা দেখে আসছি। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময়ে একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে, একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। সেটি ’৭১ সাল হোক, ’৮৬ সাল হোক, ’৯৬ সাল হোক, গত এক যুগ হোক কিংবা বর্তমান সময়-বিভিন্ন সময়ে তারা একজন আরেকজনকে আড়াল করে দিয়ে চলছে। আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, জনগণের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করে দিতে হবে।’

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনে গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এ আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও ইসমাইল জবিহউল্লাহ।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এমএএইচ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *