August 31, 2026

ঢামেকের সামনে গৃহকর্মীর মরদেহ: তিনজন ৩ দিনের রিমান্ডে

0
og_1788180476_6a9577fc3fa54.jpeg


 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় এক দম্পতিসহ তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

তবে আসামিপক্ষের দাবি, মীম আত্মহত্যা করেছিলেন এবং মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেই রেখে আসেন তারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে যাওয়া তিনজন হলেন—মীম যে বাসায় কাজ করতেন সেই বাসার গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। ফয়সাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার তিন আসামির সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ২৪ আগস্ট আদালত তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

সোমবার শুনানিতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস কাঞ্চন রিমান্ড বাতিল করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মীম আত্মহত্যা করেছিলেন। পরে আসামিরা তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে চলে যাওয়াটাই তাদের অপরাধ। তার দাবি, ফয়সালের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক জানতে চান, মীমের সঙ্গে আসামিদের সম্পর্ক কী। আইনজীবী জানান, তিনি ফয়সালের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আইনজীবী আরও দাবি করেন, মীমের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেন। বিচারক জানতে চান, মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, মীমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই মরদেহ রেখে আসা হয়।

কাঠগড়ায় রেশমার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান বিচারক। এ সময় রেশমা দাবি করেন, মীম ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন।

তবে মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মীমকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে ফয়সালের বাসায় কাজ করছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতনের কথা জানান মীম। এরপর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে তিন আসামি চলে যান। পরে প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এর পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, মীম বাসা থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। পরে ১৭ আগস্ট মীমের স্বজনরা ফয়সালের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ থানায় যান। পুলিশের সহায়তায় ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা মরদেহ শনাক্ত করেন তারা।

পরদিন ২১ আগস্ট মীমের মা শাহবাগ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ আগস্ট রাতে রাজধানীর ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে ফয়সাল, রেশমা ও আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি মরদেহ হাসপাতালে রেখে যাওয়ার কারণও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এমডিএএ/এমকেআর



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *