September 7, 2026

ইয়েমেনে সরকারপন্থি ও হুথিদের সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১

0
og_1788712335_6a9d958fa6344.jpeg


ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৪০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানি ঘটে।

সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রোববার ভোরের মধ্যে সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন; যাদের অধিকাংশই রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

অন্যদিকে, চারটি হুথি সূত্র বলেছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে একদিনের কম সময়ের এই সংঘাতে উভয়পক্ষের মোট ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে, বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলে হঠাৎ করে লড়াই ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি বলে দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী। এই জেলাটি হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশ সংযোগকারী সড়কের কাছাকাছি অবস্থিত।

সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ও ডজনখানেক হুথি যোদ্ধাকে বন্দি করার দাবি করেছে। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও লড়াই ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইয়েমেন সংঘাত তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল; যা এই নতুন লড়াইয়ের মাধ্যমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যদিও সেই আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ওই বছরের শেষের দিকে ভেস্তে যায়। তবে চুক্তির কারণে গত কয়েক বছর দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দেখা যায়নি। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির কয়েকটি প্রদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১৫ বার বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত সমুদ্রপথ ও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুট বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরপরই এসব বিমান হামলা চালানো হয়।

চলমান এই সংঘাতে দেশটিতে বেসামরিক নাগরিকরাও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) বলেছে, তায়েজে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। হুথিরা এখনো সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলেরবড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *