২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৯ অক্টোবর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও সাবেক ব্যাংকার মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার অন্য আসামি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করা হয়। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়। দলিলে শেখ হাসিনাকে ট্রাস্টের আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি ‘বিবিধ’ হিসেবে উত্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের ভাষ্য, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ প্রভাব ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ওই অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের পাশাপাশি রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগের ঘটনাকাল হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় উল্লেখ করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
এমডিএএ/বিএ

