September 9, 2026

আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে শেলটন

0
6aa1500425d7717889566766aa1500425d7a.jpg



নিউইয়র্কের রাত কখন ভোরে গড়ায়, বোঝা কঠিন। তবে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের সেই রাত যেন সময়ের হিসাবই ভুলিয়ে দিয়েছিল। আলো নিভে যাওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই, কিন্তু ম্যাচ চলছিল। দর্শকদের গলা শুকিয়ে গেছে, তবু থামেনি ‘ইউএসএ’ স্লোগান। শেষ পর্যন্ত সেই মহারণের পর্দা নামল স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৩ মিনিটে—আর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখলেন বেন শেলটন।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে ৬-৭ (৫-৭), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেছেন এই আমেরিকান তারকা। ম্যাচটি শেষ হতে সময় লেগেছে ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিট। ইউএস ওপেনের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দেরিতে শেষ হওয়া ম্যাচ।

শেষ চারে শেলটনের প্রতিপক্ষ আরেক স্বদেশি ফ্রান্সেস টিয়াফো। ফলে এবারের ইউএস ওপেনের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকছেন একজন আমেরিকান। ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের পর কোনো আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্লামের শিরোপা জিততে পারেননি। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান কি এবারই হবে?

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হয় ম্যাচ। শুরুটা ছিল আলকারাজের পক্ষেই। গ্র্যান্ড স্লামে আমেরিকান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে ১৩-০ রেকর্ড নিয়ে কোর্টে নামা স্প্যানিশ তারকাকে বেশ আত্মবিশ্বাসীও লাগছিল।

প্রথম সেটের লড়াইও ছিল তীব্র। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকে ৭-৫ পয়েন্টে জিতে সেটটি নিজের করে নেন আলকারাজ। তখন মনে হচ্ছিল, পরিচিত চিত্রনাট্যই হয়তো লেখা হতে যাচ্ছে।

কিন্তু দ্বিতীয় সেটে বদলে গেল ম্যাচের গল্প।

হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলেন আলকারাজ। একের পর এক আনফোর্সড এরর, ফোরহ্যান্ডে নিয়ন্ত্রণের অভাব—সব মিলিয়ে স্প্যানিশ তারকাকে চাপে ফেলেন শেলটন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে নেন তিনি। তৃতীয় সেটেও একই আগ্রাসন ধরে রেখে ৬-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান ২-১ সেটে।

চতুর্থ সেটে অবশ্য চ্যাম্পিয়নের চরিত্র দেখান আলকারাজ। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও হাল ছাড়েননি। এমনকি বিরতির সময় তোয়ালে বমি করতেও দেখা যায় তাঁকে। এরপরও কোর্টে ফিরে দুর্দান্ত লড়াই করেন।

চতুর্থ সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে ম্যাচকে নিয়ে যান পঞ্চম ও শেষ সেটে।

সেখানেই জমে ওঠে রাতের সবচেয়ে বড় নাটক।

শেষ সেটে ১২ গেম পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকে। সেখানে স্নায়ুর চাপ সামলে ১০-৭ পয়েন্টে জিতে নেন শেলটন। ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের ম্যারাথন শেষে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম।

ম্যাচ শেষে ক্লান্তি ও আবেগ একসঙ্গে ধরা পড়ে শেলটনের কণ্ঠে। তাঁর কাছে এই জয় শুধু নিজের নয়, দর্শকদেরও।

‘আমার কাছে সব সময় দর্শকেরাই শক্তি। কোচ, পরিবার, বন্ধুরা ছিল। আর ছিল নিউইয়র্ক শহর। রাত ৩টা পর্যন্ত তারা “ইউএসএ” বলে চিৎকার করেছে। ওটাই আমাকে চালিয়ে নিয়েছে, ওটাই আমাকে জিতিয়েছে।’

নিউইয়র্কের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন শেলটন। বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমি সব সময় বলি, এটা বিশ্বের সেরা ক্রীড়া শহর। এই স্টেডিয়ামও সেরা।’

এরপর হাসতে হাসতে যোগ করেন, ‘আশা করি, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের আর বোনকে তিন ঘণ্টা পর কাজে যেতে হবে না! যদি আজ তারা ছুটি পায়, তাহলে তাদের অফিসের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’

প্রতিপক্ষ আলকারাজের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শেলটন। বলেছেন, ‘কার্লোসের সঙ্গে একই কোর্টে খেলাটা সম্মানের। এখানে প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করি।’

হারের পরও কোনো অজুহাত খোঁজেননি আলকারাজ। বরং যাঁর কাছে নিজের শিরোপা-রক্ষা অভিযান থেমে গেল, সেই শেলটনের প্রশংসাই করেছেন স্প্যানিশ তারকা।

আলকারাজ বলেন, ‘আমি এমন একজনের বিপক্ষে খেলছিলাম, যে আজ পুরো একটা দানব হয়ে উঠেছিল। শেলটন অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড়। সামর্থ্য আর শক্তিতে ভরপুর। ম্যাচের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে সে ভীষণ ভালো খেলেছে।’

এখন শেলটনের সামনে আরেকটি বড় পরীক্ষা। সেমিফাইনালে টিয়াফোকে হারাতে পারলে ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠবেন একজন আমেরিকান। আর তখন ২২ বছরের গ্র্যান্ড স্লাম-খরা ভাঙার স্বপ্নটা আরও এক ধাপ কাছে চলে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *