August 30, 2026

২০ টাকার বিরোধে বাবার সামনে ছেলেকে হত্যা, ২৫ বছর পর তরুণের যাবজ্জীবন

0
chuadanga-20260827174218.jpg


মাত্র ২০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজধানীর গোপীবাগে বাবার সামনেই এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ২৫ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মনির হোসেন (১৮) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেলে গোপীবাগ এলাকার একটি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হন নজির আহম্মদ। এ সময় তার সামনে দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার ছেলে বিপ্লব ওরফে বশিরের (১৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করেন মনির হোসেন।

ছেলের চিৎকার শুনে নজির আহম্মদসহ আশপাশের কয়েকজন মনিরকে ধরে ফেলেন। পরে গুরুতর আহত বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই ছেলে হত্যার ঘটনায় নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ মনিরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

মামলাটি তদন্ত করে ডেমরা থানার এসআই আ. জব্বার ২০০২ সালের ৩১ মার্চ মনিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তদন্তে উঠে আসে, বিপ্লবের কাছে মনিরের ২০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিপ্লবকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন মনির।

২০০২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারকাজে আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

পরে ২০০৯ সালে জামিনে মুক্তি পান মনির। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এরপর থেকে মনির পলাতক থাকায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রোববার তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো। 

এমডিএএ/এমএমকে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *