September 8, 2026

‘হাসানাত-এসপির নির্দেশে হত্যার পর তাড়াতাড়ি দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়’

0
hasnat-mtrb1vth9v9eyoq-20260907200422.jpg


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহত টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার।

জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেন, ক্রসফায়ারে আমার স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ হস্তান্তর করে দ্রুত দাফন করতে বলা হয়। এই কারণে আমার এক ভাসুর ও ননদ মরদেহ দেখতে পারেনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো.জসিম উদ্দিন এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ।
এর মধ্যে মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেফতার আছেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ভুক্তভোগী দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

অভিযোগে বলা হয়, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে।

জবানবন্দিতে টিপুর স্ত্রী সুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমাকে বলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাকে একটি সভায় দেখা করতে বলেছেন। আমার স্বামী এই নিয়ে অনেক চাপের মধ্যে থাকতেন এবং এক রাতে আমাকে বলেন যে, বরিশালে দুই তিনটা ক্রসফায়ার হয়ে গেছে, আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার এবং আমার সন্তানদের কি হবে? আমার স্বামী মাস্টার্স পাস। আমি আমার স্বামীকে বলি যে, তুমি সাময়িকভাবে ঢাকায় গিয়ে একটি চাকরির চেষ্টা কর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন এলাকায় আসা যাবে। এই কারণে আমার স্বামী ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে আমার মামার বাসায় আসেন।

এর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি আমার মামী ও আমার অন্য আত্মীয় নাহার আমাকে ফোন করে বলেন যে, ডিবি পুলিশ এসে আমার স্বামী টিপু হাওলাদারকে তুলে নিয়ে গেছে। আমি তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। আমি আমার আত্মীয় স্বজনকে ফোনের মাধ্যমে ঘটনা জানাই।

এ খবরে শ্বাশুড়ী ও ভাসুরসহ ভোর বেলায় আগৈলঝাড়া থানায় যান সুমা আক্তার। তখন আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ জানায় যে, টিপু হাওলাদারকে গ্রেফতারের বিষয়ে তারা তখন পর্যন্ত কিছুই জানে না।

সুমা আক্তার বলেন, আমি তখন উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা খান, সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ লিটন, সহ-সম্পাদক রইস সেরনিয়াবাতসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে আমার স্বামীর বিষয়ে খোঁজ করার চেষ্টা করি। তারা আমাদের বলেন যে, তারা কিছুই করতে পারবেন না। তারা আমাকে এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আমি তাদের পরামর্শে আমার শ্বাশুড়ী ও ভাসুরকে নিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বরিশালের বাসায় যাই, কিন্তু দারোয়ান আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমি অনেকক্ষণ ধরে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমার বাড়িতে ফেরত আসি।

২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে আগৈলঝাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন দেখতে পেয়ে সুমার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় খোঁজ নিতে যান।

সুমা আক্তার বলেন, আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ও এসআই নজরুল ইসলাম আমার আত্মীয় স্বজনদের থানায় প্রবেশ করতে দেয়নি। পোস্টমর্টেম শেষে আমার একজন আত্মীয়সহ আমার মেঝ ভাসুরের কাছে আমার স্বামীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং তাড়াতাড়ি দাফন কার্য সমাপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

থানার লোকজন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের তাড়াতাড়ি দাফন সমাপ্ত করার জন্য হুমকি দেয়। আমার এক ভাসুর ও ননদ তাদের ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাননি। ওইদিন সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনার কিছুদিন পর আমি লোকমুখে জানতে পারি, স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশাল জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে উজিরপুর থানার দুই এসআই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান সুমা আক্তার।

এফএইচ/এমআইএইচএস



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *