August 30, 2026

হাসপাতাল থেকে সোনার গহনা উধাও, সিসিটিভিতে মিলল ‘আজব চোর’

0
india-mt8q065wd1kl7c3-20260825195037.jpg


রাত তখন গভীর। হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে রোগী আর স্বজনদের ব্যস্ততা কিছুটা কমে এসেছে। এর মধ্যেই নিঃশব্দে সেখানে ঢুকে পড়ল একটি কুকুর। কিছুক্ষণ পর মুখে একটি ব্যাগ নিয়ে ধীরেসুস্থে বেরিয়েও গেল। ওই ব্যাগের ভেতরেই ছিল সোনা-রুপার গহনা ও নগদ টাকা, যার মূল্য প্রায় চার লাখ রুপি।

সকালে ব্যাগটি খুঁজে না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই চুরির অভিযোগ করেন এক নারী। তদন্তে নেমে পুলিশও ধরে নিয়েছিল, কোনো চোর সুযোগ বুঝে ব্যাগটি নিয়ে গেছে।

কিন্তু হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খুলতেই বদলে গেল পুরো গল্প। পুলিশ দেখল, যে ‘চোরকে’ তারা খুঁজছে, সে আসলে মানুষই নয়।

সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্য প্রদেশের মান্দসৌর জেলা হাসপাতালে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছিলেন লতাবাই

নিখোঁজ ব্যাগটির মালিক লতাবাই বাল্মিকী। তিনি নাহারগড় থানার আওতাধীন কায়ামপুর এলাকার বাসিন্দা। হাতের চোটের চিকিৎসার জন্য তার ছেলে জেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন লতাবাইও।

তার কাছে থাকা একটি ব্যাগে ছিল বেশ কিছু সোনা ও রুপার গহনা। ছিল প্রায় দুই হাজার রুপি নগদও।

গত রোববার দিনগত রাতে কোনো এক সময় ব্যাগটি নিখোঁজ হয়। লতাবাইয়ের অভিযোগ, রাত ১টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে।

ব্যাগে ছিল রুপার কোমরবন্ধ, রুপার নূপুর, সোনার মঙ্গলসূত্র, দুটি সোনার আংটি, রুপার ঘুঙুর, সোনার দানা, কানের দুল, নাকের নথ এবং রুপার পায়ের আংটি।

সব মিলিয়ে এসব গহনার মূল্য প্রায় চার লাখ রুপি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভি খুলতেই বেরিয়ে এলো আসল ‘চোর’

সকালে ব্যাগটি না পেয়ে লতাবাই পুলিশের দ্বারস্থ হন। শহর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

মূল্যবান গহনা থাকায় অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ব্যাগ উদ্ধারের দায়িত্ব পান হেড কনস্টেবল অজয় সোলাঙ্কি।

হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেখানেই দেখা যায় অবাক করা দৃশ্য।

দেখা যায়, রাত প্রায় ৪টার দিকে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ঢুকছে একটি কুকুর। কিছুক্ষণ পর সেটি মুখে করে লতাবাইয়ের ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এরপর হাসপাতালের অন্য ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করে পুলিশ। একটি ক্যামেরা থেকে আরেকটি ক্যামেরার ফুটেজ ধরে কুকুরটির গতিপথ অনুসরণ করা হয়।

শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরের একটি খোলা জায়গায় গিয়ে থামে সেই পথ। সেখানেই পাওয়া যায় নিখোঁজ ব্যাগটি।

অক্ষত ছিল সব গহনা

ব্যাগ উদ্ধারের পর স্বস্তি ফেরে লতাবাইয়ের। কারণ, ভেতরে থাকা সোনা-রুপার গহনা ও নগদ টাকা অক্ষত ছিল।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া সামগ্রী লতাবাইয়ের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুষ্পেন্দ্র সিং রাঠোর বলেন, লতাবাই সকালে বুঝতে পারেন তার মূল্যবান গহনা রাখা ব্যাগটি নেই। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে একটি কুকুরকে ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখা যায়।

লতাবাই পুলিশকে জানিয়েছেন, গহনার পাশাপাশি ব্যাগে বিস্কুট ও আরও কিছু খাবার ছিল। পুলিশের ধারণা, খাবারের গন্ধে আকৃষ্ট হয়েই কুকুরটি ব্যাগটি মুখে তুলে নিয়েছিল।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

একটি পথকুকুর কীভাবে হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু ঢোকাই নয়, কুকুরটি পুরো হাসপাতাল চত্বর ঘুরে একটি রোগীর স্বজনের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল। কেউ তাকে থামানোর চেষ্টা করেনি।

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *