September 5, 2026

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট: সৌন্দর্যের আড়ালে ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি

0
og_1788625050_6a9c409a6d063.jpeg


বর্তমানে আধুনিক জীবনের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে অনেকেই সৌন্দর্যের পেছনে ছোটে। এ সৌন্দর্য্যের ক্ষেত্রে নিজেদের আরও আকর্ষণীয় দেখাতে নানা ধরণের অস্ত্রপচার করছেন নারীরা। নাক-ঠোটসহ শরীরের বিশেষ অঙ্গে অস্ত্রপচারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে, এসবে রয়েছে নানামুখী স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এই প্রতিবেদনে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট কী:

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট হলো এক ধরনের কৃত্রিম প্রোস্থেসিস যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্তনের আকার বৃদ্ধি, সুগঠিত করা জন্য ব্যবহার করা হয়।

এনবিসির তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লাখো নারী ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করে থাকেন। দেশটিতে প্রতি বছর ৩ লাখের বেশি নারী সৌন্দর্যবর্ধক উদ্দেশ্যে স্তন ইমপ্ল্যান্ট করান। এ ছাড়া মাস্টেকটমির পর স্তন পুনর্গঠনের জন্য আরও প্রায় ১ লাখ নারী এই পদ্ধতি গ্রহণ করেন।

এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিগত বছরগুলোতে দফায় দফায় শুনানি করেছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। এতে প্লাস্টিক সার্জন, ইমপ্ল্যান্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের পর নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা নারীরা অংশ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

এসব শুনানিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট-অ্যাসোসিয়েটেড অ্যানাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিম্ফোমা (BIA-ALCL)। এটি এক ধরনের ক্যানসার যা স্তন ইমপ্ল্যান্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া দাগের টিস্যুতে শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৪৫৭ জন নারীর এই রোগ শনাক্ত হয়েছে।

সাধারণত ইমপ্ল্যান্ট বসানোর বহু বছর পর হঠাৎ ফুলে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, চুলকানি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক রোগী অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছিলেন কিন্তু ইমপ্ল্যান্ট থেকেই ক্যানসারের ঝুঁকি থাকতে পারে-এ বিষয়ে সতর্ক করেননি।

অনেক নারী এই ইমপ্ল্যান্টকে ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, মাথাব্যথা ও ‘ব্রেইন ফগ’সহ নানা সমস্যার জন্য দায়ী করেন। এসব উপসর্গকে সম্মিলিতভাবে ‘ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট ইলনেস’ বলা হয়।

২০১৭ সালে BIA-ALCL ধরা পড়া মার্কিন নাগরিক জর্জিয়ার জেনিফার কুক বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছিলাম।’

স্বল্পমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সংক্রমণ: অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহ পর ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে সংক্রমণ হতে পারে। গুরুতর হলে ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

হেমাটোমা বা সেরোমা: রক্তক্ষরণ বা তরল পদার্থ জমে যেতে পারে যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করার প্রয়োজন হতে পারে।

ব্যথা ও ক্ষত নিরাময়ের সমস্যা: দীর্ঘস্থায়ী স্তনব্যথা, কালশিটে, ফোলাভাব বা দাগ ঠিকমতো না শুকানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনুভূতির পরিবর্তন: স্তনবৃন্ত বা স্তনের ত্বকের অনুভূতি সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা

ক্যাপসুলার কনট্রাকচার: ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে তৈরি হওয়া দাগের টিস্যু শক্ত হয়ে ইমপ্ল্যান্টকে চেপে ধরতে পারে। এতে স্তন শক্ত হয়ে যাওয়া ও প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

ইমপ্ল্যান্ট ফেটে যাওয়া বা চুপসে যাওয়া: স্যালাইন ইমপ্ল্যান্ট ফেটে গেলে সাধারণত তা দৃশ্যমানভাবে চুপসে যায়। অন্যদিকে, সিলিকন জেল ইমপ্ল্যান্ট ফেটে গেলেও বাইরে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা নাও যেতে পারে—এটিকে ‘সাইলেন্ট রাপচার’ বলা হয়।

স্থানচ্যুতি: ইমপ্ল্যান্ট নিজের জায়গা থেকে সরে যেতে পারে, নড়াচড়া করতে পারে অথবা দুই স্তনের আকারে অসমতা ও ত্বকে ঢেউখেলানো ভাব তৈরি করতে পারে।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সমস্যা: স্তনের টিস্যুতে পরিবর্তনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।

কেএম 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *