August 29, 2026

বাল্যবিয়ে বন্ধ, ইউএনওর গাড়িতে হামলা করে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

0
dmc2-mtes6ec5goza6u6-20260830013701.jpg


নওগাঁর আত্রাইয়ে একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ বিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বরযাত্রীদের হামলার মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ইউএনওর গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার পক্ষের লোকজন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সমাসপাড়ায় ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে অভিযুক্ত বর আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরযাত্রীরা ইউএনওর গাড়ির গতিরোধ করেন। এসময় প্রায় ৩০ জন অতর্কিতে হামলা এবং আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর, কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

এদিকে এ বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে সমাসপাড়া উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীর একাংশ।

জানতে চাইলে মুনির বলেন, ‘বিয়েটা আরও দুই বছর আগে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকে সেখানে গিয়েছি। পরে ইউএনও এসে বিয়ের অনুষ্ঠানটা বন্ধ করে দিলে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। আমি উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। হামলায় ইন্ধনের অভিযোগটি সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে ইউএনও মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করি। বরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় বরপক্ষের লোকরা আমাদের গাড়ি আটকে দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর হামলার চেষ্টা এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

তিনি জানান, বাল্যবিয়ে আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এএইচআরএন/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *