September 2, 2026

প্রতিটি ছাদ হোক বিদ্যুৎকেন্দ্র

0
og_1788338575_6a97e18f2c489.jpeg


একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ড্রাইভিং ফোর্স হলো জ্বালানি। জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশের শিল্পায়ন, কৃষি, নগরায়ন তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের দিকে ধাবমান, ঠিক তখনই বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির অগ্নিমূল্য এবং ডলার সংকটের কারণে আমরা এক কঠিন জ্বালানি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এলএনজি কিংবা কয়লা আমদানির ওপর চরম নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতিকে বারবার চাপের মুখে ফেলছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী, দূরদর্শী ও যুগান্তকারী একটি নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবে, তারা তাদের নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করতে পারবে।

বর্তমান বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ ৮ টাকা নির্ধারণ করে তার সঙ্গে ২০ শতাংশ লাভ এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে এই যে ১০.৫০ টাকার আকর্ষনীয় ট্যারিফ ঘোষণা করা হয়েছে, তা দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক বিশাল অপার সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে আমি মনে করি। এটি কেবল একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিটি ছাদকে এক একটি পরিবেশবান্ধব মিনি-বিদ্যুৎকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার এক মহা-পরিকল্পনা।

সরকারের ঘোষিত এই মাস্টারপ্ল্যানটির সাফল্য নির্ভর করছে এর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়নের ওপর। প্রজ্ঞাপনটিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই প্রণোদনার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে:

নির্দিষ্ট সময়সীমা:
বিশেষ এই প্রণোদনাটি পেতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করার ফলে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এক ইতিবাচক তাগিদ তৈরি হবে।

নেট মিটারিং ও গ্রিড সংযোগ:
গ্রাহক তার উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে নিজে ব্যবহার করবেন। এরপর দিন শেষে বা ব্যবহার শেষে যে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ থেকে যাবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে জাতীয় গ্রিডে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো (যেমন ডিপিডিসি, ডেসকো, আরইবি ইত্যাদি) সুনির্দিষ্ট মিটারের মাধ্যমে এর হিসাব সংরক্ষণ করবে।

স্বচ্ছ অর্থ প্রদান পদ্ধতি:
প্রণোদনার অর্থ কোনো নগদ লেনদেনের মাধ্যমে দেওয়া হবে না। এটি সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে, যা এ খাতে দুর্নীতি রোধ করবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

মান নিয়ন্ত্রণ ও সেবা সহজীকরণ:
নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এবং মিটার অবশ্যই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা/SREDA) নির্ধারিত মানের হতে হবে। এছাড়া কারিগরি সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রচার ও প্রসার একটি গেম-চেঞ্জার ভূমিকা পালন করতে পারে। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:

১. অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে বিশাল গ্রাউন্ড-মাউন্টেড বা উন্মুক্ত জমিতে সোলার পার্ক করার মতো অঢেল জমি নেই। কৃষিপ্রধান ও ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে এক একর জমিও অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু আমাদের মেগাসিটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ জেলা শহরগুলোতে লক্ষ লক্ষ আবাসিক ভবন এবং হাজার হাজার একর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার ছাদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ কোনো বাড়তি কৃষি জমি নষ্ট না করেই সেই অনাবাদি ছাদগুলোকে দেশের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থলে পরিণত করবে।

২. বাংলাদেশ প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার খরচ করে কাতার, ওমান কিংবা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি এবং কয়লা আমদানি করে। ডলার সংকটের এই সময়ে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ তৈরি করেছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ যদি জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগ করতে পারে, তবে জ্বালানি আমদানির ওপর থেকে ভারতের মতো নির্ভরতা কমবে, মূল্যবান বৈশ্বিক রিজার্ভ সাশ্রয় হবে এবং ডলার সংকট নিরসনে সরাসরি অবদান রাখবে।

৩. আমাদের তৈরি পোশাক খাত (RMG) সহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্প প্রায়শই গ্যাস ও বিদ্যুতের স্বল্পচাপের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে। কারখানাগুলোর সুবিশাল ছাদকে সোলার প্যানেলে ঢেকে দিলে তারা একদিকে নিজেদের প্রয়োজনীয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারবে, অন্যদিকে ছুটির দিনে বা অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করে বাড়তি রাজস্ব আয় করতে পারবে।

৪. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম প্রথম সারিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের (বিশেষ করে পোশাক খাতের) গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন শূন্য কার্বন নিঃসরণ বা ডিকার্বোনাইজেশন নীতি জোরদার করছে। সরকারের এই নীতি আমাদের শিল্প খাতকে পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং’-এর দিকে নিয়ে যাবে।

এবার দেখা যাক, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ কীভাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগিয়ে তাদের অর্থনীতির ভাগ্য বদলে দিয়েছে, তা পর্যালোচনা করলে সরকারের এই উদ্যোগের যথার্থতা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

জার্মানি (Energiewende ও ফিড-ইন ট্যারিফ): নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জার্মানির বিপ্লব বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তারা ১৯৯০-এর দশকে এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘Feed-in Tariff’ (FiT) আইন পাস করে। জার্মানি সাধারণ নাগরিকদের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী নির্দিষ্ট মূল্যের নিশ্চয়তা দেয়। এর ফলে জার্মানির কোটি কোটি নাগরিক কেবল বিদ্যুৎ গ্রাহক থেকে ‘প্রডিউসার-কনসিউমার’ বা ‘প্রোসিউমার’ (Prosumer)-এ পরিণত হয়। আজ জার্মানির মোট বিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।

ভিয়েতনাম (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্ময়): ২০১৯-২০২০ সালে ভিয়েতনাম এক অভূতপূর্ব সোলার বিপ্লব ঘটায়। তারা ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য আকর্ষনীয় ফিড-ইন ট্যারিফ ও সহজ ঋণ সুবিধা চালু করে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভিয়েতনাম প্রায় ৯,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ তাদের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সক্ষম হয়! ভিয়েতনামের শিল্প খাত আজ এই সস্তা ও টেকসই বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববাজারে চীনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।

ভারত (পিএম সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা): আমাদের প্রতিবেশী ভারত সম্প্রতি ১ কোটি পরিবারকে ছাদভিত্তিক সোলার দেওয়ার লক্ষ্যে বড় আকারের প্রণোদনা ও ভর্তুকি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতে শিল্পকারখানা ও আবাসিক ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ফলে গ্রিডের ওপর চাপ অভাবনীয়ভাবে কমেছে এবং তাদের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

চীন (সৌর প্রযুক্তির বিশ্বনেতা): চীন বিশ্বের বৃহত্তম সোলার প্যানেল উৎপাদনকারী দেশ। তারা প্রতিটি শহরের নতুন বহুতল ভবন ও সরকারি দপ্তরের ছাদে সোলার বসানো বাধ্যতামূলক করেছে। কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে চীনে উৎপাদন খরচ (Cost of Production) বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন।

বিশ্বের এই সফল মডেলগুলো প্রমাণ করে যে, সঠিক নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা দিলে ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেম একটি দেশের জ্বালানি চিত্র রাতারাতি বদলে দিতে পারে। এখানে সবচেয়ে বড় কথা হলো,বাংলাদেশের বর্তমান প্রজ্ঞাপনটি আন্তর্জাতিক এই সফল মডেলগুলোর সাথেই পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেবল বাতি জ্বালানো কিংবা ফ্যান চালানোর মাধ্যম নয়, এটি হলো জাতীয় নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন খাতে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি:

শিল্প ও বাণিজ্য:
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ফলে কারখানার উৎপাদন বজায় থাকবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

নতুন কর্মসংস্থান:
সোলার প্যানেল স্থাপন, ব্যাটারি ও ইনভার্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিপণন খাতে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত:
গ্রিন ফাইন্যান্সিং বা সবুজ অর্থায়নের বড় সুযোগ তৈরি হবে। ব্যাংকগুলো সোলার ডেস্কে বিনিয়োগ করে লাভজনক ও নিরাপদ রিটার্ন পাবে।

সামাজিক স্থিতিশীলতা:
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ কমাবে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, যা দেশে শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আনবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):
এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি) এবং এসডিজি-১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম) অর্জনে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তবে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত চমৎকার এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এর সুফল শতভাগ ঘরে তুলতে হলে কিছু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে:

প্রাথমিক মূলধন ও সহজ শর্তে ঋণ:
ব্যাটারিসহ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা কিছুটা ব্যয়বহুল। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার বা ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য এককালীন এই বড় বিনিয়োগ কঠিন হতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদী ‘গ্রিন লোন’ বা ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মার্ট গ্রিড অবকাঠামো:
হাজার হাজার ছাদ থেকে আসা বিদ্যুৎ একসঙ্গে গ্রহণ করার জন্য আমাদের জাতীয় গ্রিডকে আরও আধুনিক ও ‘স্মার্ট গ্রিডে’ রূপান্তর করতে হবে। গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি ও ভোলেটেজ স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন:
ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারগুলো যেন কাগজপত্রের দৌড়ঝাঁপমুক্ত থাকে। ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোর স্থানীয় কর্মকর্তাদের এই নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিক ও গ্রাহকবান্ধব হতে হবে।

গুণগত মান নিশ্চিতকরণ:
বিএসটিআই ও শ্রেডাকে কঠোরভাবে বাজারে আসা সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির মান তদারকি করতে হবে, যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের সরঞ্জাম বিক্রি করে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট করতে না পারে।

পরিশেষে বলা চাই,জ্বালানি স্বনির্ভরতা ছাড়া কোনো জাতির অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়। আমরা যদি কেবল আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে বসে থাকি, তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও আমাদের অর্থনীতিকে থমকে দেবে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকারের “প্রতিটি ছাদ হোক বিদ্যুৎকেন্দ্র” গড়ার এই বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনা এবং ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার বিশেষ প্রণোদনা একটি মাস্টারস্ট্রোক।

২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির এই নির্দিষ্ট সময়সীমা আমাদের জন্য এক বড় সুযোগ। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ কেবল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকেই মুক্ত হবে না, বরং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এক আত্মনির্ভরশীল, পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং এর সফল বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ahabibhme@gmail.com

এইচআর/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *