মনোবল চাঙ্গা করতে থাইল্যান্ডে পৌঁছালেন মার্কিন রণতরির ৫০০০ নাবিক
টানা ২৭০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর অবশেষে থাইল্যান্ডের বন্দরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাহাজটি পাতায়ার কাছে লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরিতে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন রয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রেকর্ড সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে রণতরিটিকে। মাসের পর মাস জাহাজে থাকার কারণে নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। জাহাজের ভেতরের জীবনযাত্রার মান খারাপ হয়ে পড়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির নানা প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
কয়েকজন নাবিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে আটকে থাকা নাবিকদের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে দক্ষিণ চীন সাগরে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পরে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। এরপর থেকে টানা নয় মাস সমুদ্রে অবস্থান করতে হয় জাহাজটির নাবিকদের।
থাইল্যান্ডে তোড়জোড়
মার্কিন নাবিকদের আগমন ঘিরে থাইল্যান্ডে পাতায়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাতায়া শহর পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট পুলিশ কর্নেল আনেক স্রাথংইউ জানিয়েছেন, নাবিকদের ৫০ জন করে দলে দলে জাহাজ থেকে নামানো হবে। তারা আগামী রোববার রণতরি ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পাতায়ায় অবস্থান করবেন। নাবিকদের জাহাজ ও পাতায়ার মধ্যে যাতায়াতের জন্য বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে, থাইল্যান্ডের যৌনকর্মীদের নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে যৌনকর্ম আইনত নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনেক সময় এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয় না বলে জানিয়েছেন মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী পাত্তারাচিত গোজ্জোলি।
তবে, মার্কিন রণতরি আসার আগে পাতায়া কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। জাহাজটি আসার এক সপ্তাহ আগে সৈকতসংলগ্ন সড়কে যৌনকর্মের জন্য প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে ২৫ নারীকে গ্রেফতার করা হয়। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস অবশ্য এই অভিযানকে মার্কিন নাবিকদের আগমনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মানতে চাননি।
তিনি জানিয়েছেন, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া ঠেকানো হবে। জেটস্কিসহ কিছু জলক্রীড়া এবং থাইল্যান্ডের তুলনামূলক শিথিল গাঁজা আইন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাবিকদের নিষেধ করা হয়েছে। তবে, শহরের শপিং মল, ধর্মীয় স্থানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের অন্যতম গন্তব্য পাতায়া। একসময় ছোট ও শান্ত মাছ ধরার গ্রামটি মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণে দ্রুত বদলে যায়।
ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটনবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক পিপাটপং ফাকফারে বলেন, পাতায়ার বর্তমান পরিচয় তৈরিতে মার্কিন সেনাদের বড় প্রভাব ছিল। মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণেই ছোট ও শান্ত মাছ ধরার গ্রাম পাতায়া আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি মার্কিন সেনারা চলে গেলেও শহরটির বিনোদন ও যৌন পর্যটনকেন্দ্রিক অবকাঠামো আরও বিস্তৃত হয়। পরে, ইউরোপীয় পর্যটকদের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়া থেকেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক পাতায়ায় আসতে শুরু করেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমআরএইস/কেএএ/


