September 1, 2026

ঘরের মালামাল ডোবায় ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পরিবার

0
jamal-3-20260901220101.jpg


সকালের ধর্মকুড়া বাজারে নিজের সার ও কীটনাশকের দোকানে ছিলেন আতাউর রহমান আগা। প্রতিদিনের মতো ব্যবসার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এমন সময় বাড়ি থেকে একটি ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামের তার বসতবাড়িতে হামলা হয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে, কেটে ফেলা হয়েছে গাছপালা।

খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান ৬৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী। সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য দেখেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে দাবি তার। ঘরের টিন, আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কিছু মালামাল বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে আছে।

তার অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন পার করছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসলামপুর থানায় দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করেন আতাউর রহমান আগা।

অভিযোগে দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, এরশাদ, মিজান ও জিয়া, মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে দুলাল, সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা বেগম, এরশাদের স্ত্রী তানিয়া বেগম এবং কাচিহারা আলাইপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ ভেঙ্গুরা গ্রামে একই বংশের কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হলেও মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে পরিস্থিতি সংঘর্ষমুখী হয়ে ওঠে।

আতাউর রহমানের দাবি, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা প্রথমে বাড়ির সীমানায় থাকা ১০ থেকে ১২টি আম ও কাঁঠালের গাছ কেটে ফেলেন। এরপর বসতঘর ও রান্নাঘরে ভাঙচুর চালান।

স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাদেরও ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। খাট, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে রাস্তার পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এসময় ঘরের একটি ড্রয়ারের তালা ভেঙে ব্যবসার চার লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন অভিযোগকারী।

বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ কেটে ফেলার কারণে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী আতাউর রহমান আগা বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আসবাবপত্র ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকাও নেই। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হৃদয় আহম্মেদ/এসআর/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *