প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলে লিয়াং, বিয়ে করা হলো না যে কারণে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছুটে এসেছিলেন ডং লিয়াং নামের এক যুবক। তার ইচ্ছা ছিল, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সখীপুরের বাগবেড় গ্রামের তরুণী আশিতাকে (২৫) বিয়ে করবেন। তবে ভিসার মেয়াদ কম থাকায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতেই তাকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডং লিয়াং জানিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে শিগগির বাংলাদেশে এসে ধর্মীয় রীতি মেনে আশিতাকে বিয়ে করবেন। আশিতা উপজেলার বাগবেড় গ্রামের প্রবাসী আজমত আলীর মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ অ্যাপের মাধ্যমে আশিতা ও ডং লিয়াংয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার সন্ধ্যায় ডং লিয়াং সখীপুর বাজারে এসে পৌঁছান। খবর পেয়ে আশিতা বাড়ি থেকে সখীপুরে এসে তাকে স্বাগত জানান। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশিতা ও চীনা যুবককে দেখতে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করেন।
আশিতাকে বিয়ে করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ডং লিয়াং। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করতে চান। বিয়ের পর আশিতাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি সখীপুর থানায় জানান। মেয়েটি যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের সম্মতিতে একটি গাড়ি ভাড়া করে ডং লিয়াংকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসার পরেই ওই যুবক ফিরে গেছেন। ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে তিনি শিগগির বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং ধর্মীয় রীতি মেনে আশিতাকে বিয়ে করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য স্থানীয়রা রাতে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই নাগরিককে চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাকে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছেন।’
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/এএসএম


