September 6, 2026

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক: জামায়াত আমির

0
parliaament-jpg-11-mtpy8h9lwli29cs-20260906211954.jpg


সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি তিনি এই আইনটি চলতি অধিবেশনে পাস না করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত আইনটি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুপারিশ নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জন্য যে চিরস্থায়ী বিধান দিয়েছেন, যারা এতে বিশ্বাস রাখেন, তাদের কাছে আইনটির প্রয়োগ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে— এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াত প্রযোজ্য। প্রথম দুটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং পরের দুটি আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, উইল বা হেবার ক্ষেত্রে যার নামে সম্পত্তি দেওয়া হবে, তাকে মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতাভুক্ত। ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কাকে করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কত অংশ করা যাবে— কোরআন-হাদিসে তার নির্দেশনা রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত আইনে এ ধরনের বিষয়গুলো সম্পৃক্ত না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি কোনো ফকিহ নই, মুফতিও নই; আপনাদের মতোই কোরআনের একজন অতি সাধারণ ছাত্র। কোরআন ও হাদিস থেকে আমি যা বুঝেছি, সেটাই এখানে উপস্থাপন করেছি।

প্রস্তাবিত আইনটি মানুষের ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এটি এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে হকদারের অধিকার বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় পিতা-মাতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনটি চলতি অধিবেশনেই পাস না করে শরিয়াহ আইনের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ দিলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।

এ ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন চাইলে বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। স্থায়ী কমিটি এই সুযোগ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এবং ‘আল্লাহর আইনের খেলাফ’ থেকে দেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এমওএস/কেএসআর



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *