৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি।
ফলে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ।
তিনি জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিদেশিদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও কম্বোডিয়ার একটি চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন পুরোপুরি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল এবং তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিদেশিদের থাকা ও অন্যান্য বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে তাকে খুঁজছে পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারেন।
তবে কী ধরনের প্রতারণা করা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কয়েকটি চক্র অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। প্রতারণার ধরন বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, তা জানার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস/
