হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তার দুই সন্তানের হংকংয়ে থাকা সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) টিম লিডার ও উপপরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম আদালতে আবেদনটি করেন।
আদালতের কাছে দেওয়া আবেদনে দুদক জানায়, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ওই অর্থ যুক্তরাজ্য ও হংকংয়ে পাচারের অভিযোগের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলাম হংকংভিত্তিক ‘চায়না সুপ্রিম লিমিটেড’-এর প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক। প্রতিষ্ঠানটির দ্য ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেডে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই অর্থ বিদেশে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অর্জিত সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নে গোপন করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
দুদক আবেদনে উল্লেখ করে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে হংকংয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে এবং সেসব সম্পদ দ্রুত সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ‘চায়না সুপ্রিম লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ফ্রিজ বা ব্লক করা প্রয়োজন।
নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দুটি মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়। এর মধ্যে অর্থপাচারের একটি মামলায় এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।
এমডিএএ/বিএ
