শিক্ষক রনজিলা নিহত: রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারানো বগুড়ার প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের (৫৬) মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
পাঁচদিনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) ও মো. রাকিব হোসেন (২৪)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শাহিন রিমান্ড শেষে তিনজনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ আগস্ট ভোরে। চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন রনজিলা পারভীন। ওই দিন ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তারা অটোরিকশায় করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। হঠাৎ ওই টানে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান তিনি। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
ঘটনার পর তার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে জড়িতদের শনাক্তের পর ৩০ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে র্যাব-২।
র্যাবের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পরে মামলায় তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। গত ৩১ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলো।
এমডিএএ/এমকেআর

