September 3, 2026

রেলওয়ে থেকে নেওয়া অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ফের চালু

0
og_1788436032_6a995e40643d6.jpeg


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে নেওয়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেটে দেওয়া সংযোগগুলো আবারও চালু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অভিযানে ৩০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর একই দিন রাতে সেগুলোর বেশ কয়েকটি পুনরায় লাগিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করেন গ্রাহকেরা। এতে রেলওয়ের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম জানান, মঙ্গলবারের অভিযানে প্রায় ৩০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে জংশন এলাকায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি সংযোগ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি রেলওয়ে জংশন এলাকার সব বাসা, কোয়ার্টার ও দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকায় তিন শতাধিক বাসা ও কোয়ার্টার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসায় বর্তমানে রেলওয়ের কোনো কর্মচারী বসবাস করেন না। এসব বাসায় বহিরাগতরা বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করছেন।

শুধু রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টার নয়, জংশন এলাকার বেশ কিছু দোকানেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির অভাবে এসব সংযোগের বিস্তার ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সংযোগের পেছনে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আবার রেলওয়ের কিছু বাসা কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ থাকলেও তারা নিজেরা না থেকে সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে রেলওয়ে কলোনি ঘুরে দেখা যায়, শতাধিক বাসা ও কয়েকটি দোকানে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এসব বাসা ও দোকানে লাইট, ফ্যানের পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, আয়রন ও বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। কলোনির বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কাজও চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এতে রেলওয়েকে বেশি বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের সহযোগিতা ছাড়া এসব অবৈধ সংযোগ টিকে থাকা সম্ভব নয়।

অভিযোগের বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, প্রায় ৩০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে কিছু এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। আবার কিছু বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/কেএইচকে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *