মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের
ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আমিন খান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার শরীরে হাত-পা বাঁধার দাগ পাওয়ার দাবি করে নিরাময় কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে আমিনের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ কর্তৃপক্ষ। পরে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
মৃত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মানসিক ও আচরণগত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০-১২ দিন আগে তাকে ফরিদপুর শহরে ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে তার মৃত্যুর সংবাদ জানায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ দেখতে পান। এ সময় নিহতের গায়ের বর্ণ হলুদ দেখতে পায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করে জানান, রোববার দুপুর একটার দিকে মোবাইলে কল করে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই অসংলগ্ন আচরণ করছে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ। নিহতের শরীরে স্পষ্টভাবে রশির দাগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সাধারণ মৃত্যুর রিপোর্ট তৈরি করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত রিহ্যাবের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর কথা বলে আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে একাই থানায় চলে যান।
তিনি বলেন, রিহ্যাব সেন্টারে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমার ভাই আমিন খানকে হাত-পা বেঁধে ওপর করে চেপে রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতনের কারণে তিনি মারাত্মকভাবে ঘেমে যান। তবে সম্পূর্ণ ফুটেজ দেখতে চাইলে রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ তা না দেখিয়ে সিসিটিভি রুম ত্যাগ করে।
রবিউলের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা কোতোয়ালি থানার অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-করীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, নিহত আমিন খান রাতে ঘুমের সময় অন্যান্য রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত করছিলেন। সকালের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রিহ্যাবে প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পরিচালকের মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/এএসএম
