September 3, 2026

বোনের পরকীয়ার জেরে ভাইকে হত্যা, ‌‌১ মাস পর ডোবায় মিললো কঙ্কাল

0
og_1788450900_6a99985435677.jpeg


গাজীপুর থেকে নিখোঁজের এক মাস পর মাদারীপুরের একটি ডোবা থেকে সৌরভ আহমেদ (২০) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, সৌরভের বোন নুপুর তার স্বামী রবিউল ইসলামের সংসার ছেড়ে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর ক্ষুব্ধ হন রবিউল। সেই ক্ষোভে শ্যালক সৌরভকে পরিকল্পিত হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় রবিউল ও তার সহযোগী শাহিন মুন্সিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর দত্ত এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত সৌরভ আহমেদ জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্যা খাকুরীপাড়া গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে। গ্রেফতার রবিউল ইসলাম (২২) সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মুরাগাছা গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। শাহিন মুন্সি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার জোড়গাঁও গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন সৌরভ। পরে তার মা কাকলী বেগম গাজীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় পরে তিনি হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্ত বলেন, সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সৌরভের অবস্থান শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও পারিবারিক বিরোধের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে রবিউল সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সাতক্ষীরায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদে সৌরভ হত্যার সঙ্গে আরও তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাট এলাকা থেকে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল ও শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানান, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে নুপুরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে মাদারীপুরের রাজৈরে তারা সংসার শুরু করেন। একপর্যায়ে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নুপুরের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রবিউল। এ জন্য শাহিনসহ আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে ৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ডোবার কাছে নিয়ে রাত ৯টার দিকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে রবিউল ও শাহিন জানিয়েছেন। পরে মরদেহের অংশবিশেষ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি খালের ডোবায় কচুরিপানার নিচে গুম করা হয় বলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে।

পরে রবিউল ও শাহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সৌরভ হত্যাকাণ্ডে রবিউল, শাহিনসহ আরও দুজন জড়িত ছিলেন। রবিউল ও শাহিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

শিহাব খান/কেএইচকে/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *