September 7, 2026

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি কমাতে ৩ দিনের আলটিমেটাম

0
ugc-mtlmbbsx0tk3frh-20260903202818.jpg


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি কমানো, ট্রাস্টি বোর্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম চালুর দাবিতে সরকারকে তিনদিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে টিউশন ফি নির্ধারণের যে নীতিমালা রয়েছে, বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি ক্রেডিটে শিক্ষার প্রকৃত ব্যয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। অথচ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কয়েকগুণ বেশি টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রতি ক্রেডিটে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা আইন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হাসিবুল হোসেন শান্তর দাবি, টিউশন ফি নির্ধারণে স্বচ্ছ কাঠামো না থাকা এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে গত ২১ জুলাই ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় পরে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে টিউশন ফি নির্ধারণ, ফি আদায়ে অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে রুল জারি করেছেন এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জবাব দিতে বলেছেন বলেও জানান তিনি।

হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, আদালতের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু এ সময়েও শিক্ষার্থীদের বাড়তি টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। তাই নির্বাহী বিভাগের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানান তারা। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দাবি করে এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম চালু করতে হবে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে একই নম্বর পেয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম সিজিপিএ পাওয়ায় চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া রিটেক কোর্সের ক্ষেত্রে পূর্ণ কোর্স ফি আদায় না করে অর্ধেক ফি নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

আন্দোলনকারীরা বলেন, রাষ্ট্রের নানা সংকট থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম নিরসনে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে বাধ্য হবেন তারা।

তারা বলেন, আমরা তিনদিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার আদায় করা হবে।

এফএইচ/ইএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *