বাবার মতোই ফ্রি-কিক মেসির ছেলে সিরোর
লিওনেল মেসির ছেলেরা ফুটবল খেলবে- এটা যেন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু মেসি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য সিরো মেসি যখন মাঠে নেমে বাবার মতোই দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের ফুটবল প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে আবারও ভক্তদের নজর কেড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার কনিষ্ঠ সন্তান।
ইন্টার মায়ামির বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ড্রিমস কাপে খেলছিলেন সিরো। সেখানেই ম্যাচে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। গোলটির পর তার উদযাপনও ছিল দেখার মতো- সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার পর চোখে সানগ্লাস পরে, দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন সিরো। আট বছরের এক শিশুর এমন ‘কুল’ উদযাপন মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে সিরোর আত্মবিশ্বাসই নজর কেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বলের সামনে দাঁড়িয়ে গোলের দিকে তাকিয়ে এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বলকে প্রতিপক্ষের দেয়ালের ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে বল চলে যায় গোলে।
তবে এখানেই রয়েছে মজার একটি পার্থক্য। বাবা লিওনেল মেসি বিখ্যাত বাঁ-পায়ের ফুটবলার। বিপরীতে সিরো ডান পায়ে খেলেন। ফলে পায়ের ব্যবহারে বাবার সঙ্গে তার পার্থক্য থাকলেও ফ্রি-কিক নেওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং বলের গতিপথ দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গেছে মেসির অসংখ্য বিখ্যাত ফ্রি-কিকের কথা।
আর গোলের পর সানগ্লাস পরে সিরোর উদযাপন যেন মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
ড্রিমস কাপে অবশ্য একটি গোল করেই থামেননি সিরো। পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ফাইনালে ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-৮ দল ওয়েস্টন এফসিকে ১০-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে। সেই ম্যাচেও সিরো করেন দুটি গোল।
টুর্নামেন্ট শেষে তার হাতে ওঠে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন তিনি। অর্থাৎ শুধু বাবার পরিচয়ের কারণে নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছেন সিরো।
ফুটবল যেন মেসি পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। সিরো একা নন- লিওনেল মেসির বড় দুই ছেলে থিয়াগো ও মাতেওও ইন্টার মিয়ামির যুব কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তিন ভাই একই ক্লাবের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল শিখছেন।
এদিকে তাদের বাবা লিওনেল মেসি এখনো ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় লিখে চলেছেন। ফলে একই ক্লাবের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে তিন ছেলের বেড়ে ওঠা মেসি পরিবারের ফুটবল-যাত্রাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
তবে এখনই ‘পরের মেসি’ নয়
সিরোর বয়স মাত্র আট বছর। তাই এত অল্প বয়সে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। তার ওপর বাবার নাম লিওনেল মেসি- যিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ফলে সিরো মাঠে নামলেই তার সঙ্গে বাবার তুলনা হওয়াটা প্রায় অনিবার্য।
কিন্তু এই বয়সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলাটাকে উপভোগ করা, শেখা এবং ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা তৈরি করা। বাবার মতো হতে হবে- এমন কোনো চাপ তার ওপর থাকা উচিত নয়।
তবে সিরোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, ফুটবল নিয়ে তার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট। ড্রিমস কাপে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল, ফাইনালে জোড়া গোল, সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এমভিপি- সব মিলিয়ে আট বছর বয়সেই নিজের জন্য একটি স্মরণীয় টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন তিনি।
আইএইচএস/
