প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু: আশফাকুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও ওমর ফারুক আসিফ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
শুনানি শেষে আদালত দুই আসামিকে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলাটি বিচারের জন্য এগিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের বাসিন্দা ছিলেন প্রীতি উরাং। মৃত্যুর আগে প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টমতলায় সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই বাসার বসার ঘরের জানালার কাচের ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন প্রীতি। জানালাটিতে নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রীতির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা লোকেশ উরাং বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে পুলিশ সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত শেষে ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের এসআই এস এম মাহমুদ রেজা ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে দুজনকেই আসামি করা হয়।
মামলাটি বিচার শুরুর পর্যায়ে পৌঁছালে গত ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
মামলায় গ্রেফতারের পর সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে ২০২৪ সালের জুনে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এমডিএএ/বিএ
