ড্রোনে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প, কিন্তু কেন?
চীনে তৈরি ড্রোনসহ বিভিন্ন ড্রোনের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ড্রোনের ওপর এ শুল্কের প্রভাব পড়বে।
চীনের ড্রোন নির্মাতা ডিজেআই একাই বিশ্বের ড্রোন বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও আগুনের উৎস শনাক্ত করা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার মতো কাজে এসব ড্রোন ব্যবহার করে।
তবে সামরিক ক্ষেত্রেও ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগে গত ডিসেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন কিছু ড্রোন মডেলের বিক্রি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
দেশীয় ড্রোন শিল্প গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র
চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে ড্রোন উৎপাদন বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। এর আগে চীনা আধিপত্য মোকাবিলায় বিদেশে তৈরি মোবাইল রোবটের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ড্রোন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতিকে ‘শিল্প ধ্বংসকারী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ট্রাম্প পরিবারেরও যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন শিল্পে আর্থিক স্বার্থ রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ছেলেদের কয়েকটি মার্কিন ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন শুল্কনীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ড্রোনের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে চীনা নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
শাহজালাল/কেএসকে

