নারী শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের পরিকল্পনা, ঢাবিতে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় পুরুষ শিক্ষার্থীর পরিচালিত একটি অনলাইন গ্রুপে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথিত ধর্ষকামী ও নিপীড়নমূলক আলোচনার অভিযোগে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রীতিলতা ব্রিগেড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
সংগঠনটির সদস্য আনিয়া খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
রোববারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদ-সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপের আলোচনার সূত্রে বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় পুরুষ শিক্ষার্থীর পরিচালিত একটি অনলাইন গ্রুপে ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধর্ষকামী ও নিপীড়নমূলক আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে ঘিরে নিপীড়নের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
প্রীতিলতা ব্রিগেড বলছে, ব্যক্তিগত বার্তালাপের গোপনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলেও কোনো আলোচনায় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ বিষয় উঠে এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং তদন্তের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় / ছাত্রীদের কটূক্তির প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির আচরণের ফল নয়; এর সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামো, লিঙ্গবৈষম্য, সম্মতির অবমূল্যায়ন এবং জবাবদিহির ঘাটতির মতো বিষয় জড়িত। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই নারীরা হয়রানি, চরিত্রহনন ও যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনটির মতে, অভিযোগের পর কার্যকর বিচার না হলে ভুক্তভোগীদের নীরবতা এবং অভিযুক্তদের দায়মুক্তির প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও মুক্ত পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ও ক্ষমতার অসমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সামাজিক অপমান, চরিত্রহনন ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় অনেক নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রীতিলতা ব্রিগেড জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত এবং অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রীতিলতা ব্রিগেড।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিপীড়নের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে নিপীড়নের বিচার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের দাবি জানানো হয়।
আরটি/এসএইচএস

