গবেষণার বিস্তারে প্রকাশনা-সাইটেশনে প্রণোদনা দেবে নোবিপ্রবি
গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে শিক্ষক-গবেষকদের আরও উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা নীতিমালা করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি গবেষণাকর্মের সাইটেশনকেও প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ভেরিফায়েড গুগল স্কলার প্রোফাইলে অর্জিত প্রতি ১০০টি সাইটেশনের জন্য প্রতিবছর পাঁচ হাজার টাকা হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডেটাবেজে অধিভুক্ত কিউ ওয়ান শ্রেণির জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের জন্য ৪০ হাজার টাকা, কিউ টু শ্রেণির জন্য ৩০ হাজার টাকা, কিউ থ্রি শ্রেণির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং কিউ ফোর শ্রেণির জন্য ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
নীতিমালায় জার্নালের মান নির্ধারণে ওয়েব অব সায়েন্স, জার্নাল সাইটেশন রিপোর্টস, সিমাগো জার্নাল র্যাঙ্কিং এবং স্কোপাসের বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের নীতিমালায় শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলেও নতুন নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে সাইটেশনের হার। এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি গবেষণার প্রভাব বা ‘রিসার্চ ইমপ্যাক্ট’ মূল্যায়নে সাইটেশনকে গুরুত্ব দেওয়া।
একজন গবেষকের প্রকাশিত গবেষণাকর্ম যত বেশি আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে ব্যবহৃত ও উদ্ধৃত হবে, ততই আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার দৃশ্যমানতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নোবিপ্রবির শিক্ষক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রের ফার্স্ট অথর অথবা করেসপন্ডিং অথর হতে হবে। এছাড়া শিক্ষা ছুটিসহ অন্যান্য ছুটিতে থাকাকালে এ প্রণোদনার জন্য আবেদন করা যাবে না।
পিএইচডি ছুটিকালীন সময়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অথবা ওই সময়ে উপলব্ধ তথ্য-উপাত্ত ছুটি-পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হলেও এ পুরস্কারের আওতাভুক্ত হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট গবেষণাটি নোবিপ্রবির সঙ্গে যৌথভাবে বা কলাবোরেটিভ গবেষণা হিসেবে পরিচালিত হলে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
একটি গবেষণাপত্রের জন্য ফার্স্ট অথর অথবা করেসপন্ডিং অথর দুজনের মধ্যে যে কোনো একজনের পক্ষ থেকে মাত্র একবার আবেদন করা যাবে।
একইসঙ্গে, একজন গবেষক সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশিত গবেষণাপত্রের জন্য প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবেন। তবে, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রণোদনার সংখ্যা এবং বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল নির্ধারণ করবে।
এমন উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে কেমন ভূমিকা রাখবে জানতে চাইলে র্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও নোবিপ্রবি সাস্টেইনেবিলিটি কমিটির সদস্যসচিব ড. ফাহদ হুসাইন বলেন, ‘কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং স্কিমগুলোতে মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও সাইটেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গড় সাইটেশন সংখ্যাও হিসাব করা হয়, যা গবেষণার সুনাম বা রিসার্চ রেপুটেশনকেও প্রভাবিত করে। তাই মানসম্পন্ন গবেষণায় উৎসাহ প্রদানে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের পরিচালক ও উপ উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গবেষকদের প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং আবেদন গ্রহণ করেছে। বর্তমানে আবেদনগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
উপ উপাচার্য বলেন, ইউজিসির নতুন অর্থবছরের নীতিমালা অনুযায়ী গবেষণা তহবিলের ৮৫ শতাংশ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা খাতে ব্যয় করতে হবে। অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ও অন্যান্য বিবিধ খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে।
উপ উপাচার্য আরও বলেন, চলতি অর্থ-বছরের বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে গবেষকদের জন্য প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি বরাদ্দ পাওয়া গবেষণা তহবিলের ওপর নির্ভর করবে। আমরা গবেষণা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নোবিপ্রবিকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই নীতিমালা নোবিপ্রবির শিক্ষক ও গবেষকদের শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশেই নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম মানসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনায় উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে সাইটেশনভিত্তিক প্রণোদনা গবেষকদের এমন গবেষণায় আগ্রহী করে তুলবে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে নোবিপ্রবির গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
এসজেডএইচ/জেআইএম
