কপালে লাগানো থাকলেই শরীরের খুঁটিনাটি মাপবে ‘টেম্পল’
স্মার্টওয়াচ কিংবা ফিটনেস ব্যান্ড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন তথ্য জানার দিন হয়তো এবার বদলাতে চলেছে। কারণ পরিধেয় প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসছে আরও ছোট এবং ভিন্ন ধরনের একটি ডিভাইস ‘টেম্পল’। এটি হাতে বা কব্জিতে পরতে হবে না। চোখ ও কানের মাঝামাঝি, কপালের পাশের অংশে ছোট্ট একটি ডিভাইসের মতো করে লাগিয়ে রাখা যাবে।
ডিভাইসটি তৈরি করেছে একই নামের প্রযুক্তি সংস্থা টেম্পল। সম্প্রতি জোম্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলকে এই ডিভাইস পরে দেখা যাওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়াবিদকেও এর পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে।
কপালে কেন বসানো হচ্ছে?
স্মার্টওয়াচ সাধারণত কব্জিতে পরে শরীরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। কিন্তু টেম্পলের নির্মাতাদের দাবি, কপালের পাশে ডিভাইস বসানোর বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এই জায়গা থেকে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে শুধু হাঁটা, দৌড়ানো বা হার্ট রেটের মতো সাধারণ তথ্য নয়, শরীর ও মস্তিষ্কের অবস্থার আরও বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ করাই এই ডিভাইসের অন্যতম লক্ষ্য।
২৪ ঘণ্টা নজর রাখবে শরীরের ওপর
টেম্পলকে শুধু ব্যায়ামের সময় ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়নি। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ঘুমের মান, মানসিক চাপ, শরীরচর্চার সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং ব্যায়ামের পর শরীর কতটা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এ ধরনের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করবে ডিভাইসটি।
অর্থাৎ একজন ব্যক্তি কখন ভালোভাবে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কখন শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কিংবা কখন শরীরকে আরও বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয় বুঝতে সাহায্য করার লক্ষ্য রয়েছে এই প্রযুক্তির।
‘এনট্রপি’ কী?
টেম্পলের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো ‘এনট্রপি’ নামে একটি বায়োমার্কার। সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে শরীর প্রতিনিয়ত কাজ করতে গিয়ে কতটা চাপ বা শক্তি ব্যয় করছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে। এটি মূলত দুই ধরনের তথ্যের মাধ্যমে দেখানোর কথা বলা হয়েছে।
রেস্টিং এনট্রপি: শরীর যখন বিশ্রামে থাকে, তখন তার শারীরিক অবস্থার কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করবে।
ম্যাক্স এনট্রপি: শরীর সর্বোচ্চ মাত্রায় সক্রিয় থাকার সময় কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তা বোঝাতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে শরীর কতটা পরিশ্রম সহ্য করতে পারছে বা আরও কতটা চাপ নেওয়া সম্ভব, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আকার আরও ছোট হচ্ছে
টেম্পলের নতুন সংস্করণটি আগের মডেলের তুলনায় অনেক ছোট হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েল। তার দাবি, নতুন ডিভাইসটির আয়তন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম করা হয়েছে। ছোট আকারের কারণে এটি শরীরে লাগিয়ে রাখলেও ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজে তুলনামূলক কম বাধা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কব্জিতে ঘড়ি বা ব্যান্ড পরতে যারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্যও এই ধরনের ওয়্যারেবল প্রযুক্তি নতুন বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
কবে আসছে, দাম কত?
ভারতের বাজারে টেম্পল আনার প্রস্তুতি চলছে। প্রথম ধাপে সীমিত সংখ্যক ডিভাইসের প্রি-বুকিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১০০টি ডিভাইসের আগাম বুকিং নেওয়া হতে পারে।
২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকদের হাতে ডিভাইস পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। দাম নিয়ে শুরুতে প্রায় ৭২ হাজার টাকার মতো অনুমান করা হলেও পরে দীপিন্দর গোয়েল জানিয়েছেন, ডিভাইসটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা বা ১ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
তবে এটি এখনও সাধারণ স্মার্টওয়াচের বিকল্প হিসেবে গণবাজারের পণ্য হয়ে উঠবে কি না, তা সময়ই বলবে। কারণ এর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তবে শরীরের তথ্য আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার দাবি সত্যি কার্যকর হলে ভবিষ্যতের ওয়্যারেবল প্রযুক্তিতে টেম্পল নতুন একটি দিক খুলে দিতে পারে।
সূত্র: গ্যাজেট ৩৬০
কেএসকে


