August 31, 2026

কীভাবে নেপালে আটকা পড়লেন তাসরিফ খান, ফুরিয়ে গিয়েছিল টাকাও

0
salman-khan-mte1drv1bfx40qt-20260829130932.jpg


নেপালে ভয়াবহ বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আটকা পড়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান ও তার দল। তবে তারা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন এই গায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালে তাদের আটকা পড়া নিয়ে নানা ধরনের শিরোনাম দেখে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন তাসরিফ।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাসরিফ জানান, নেপালে যে এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তিনি ও তার দল ছিলেন না। তারা ঘান্দ্রুক নামের একটি পর্যটন গ্রামে আটকা পড়েছিলেন।

তাসরিফ বলেন, ঘান্দ্রুক থেকে ‘বিরেথানটি’ যাওয়ার পথে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চারটি পৃথক স্থানে রাস্তার বড় অংশ ভেসে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় তাদের সেখানে আটকে থাকতে হয়।

ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তাসরিফ লেখেন, ‘নেপালে আমাদের ঘটনাটা একটু বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন, নাহলে অনেকেই বিভিন্ন শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রথমত, নেপালে যে পাশে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের দুর্ঘটনা ঘটেছে, আমরা সেই পাশে ছিলামই না।’

তিনি আরও জানান, ঘান্দ্রুক থেকে ফেরার পথে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে আটকা পড়েন। হেঁটে ফিরতে গেলেও পথ ছিল অনেক দীর্ঘ। তার ওপর বৃষ্টি থাকলে নেপালের যেকোনো ট্রেইলে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় গাইড তাদের যেতে দিচ্ছিলেন না।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা গাইডকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাসরিফ জানান, অতিরিক্ত দুই দিন ঘান্দ্রুক গ্রামে অপেক্ষা করার পর যখন বুঝতে পারেন সড়ক দ্রুত ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং সকালে আবহাওয়াও ভালো হতে শুরু করেছে, তখন তারা সারাদিন হেঁটে বিরেথানটি পর্যন্ত যান। সেখান থেকে গাড়িতে করে পোখরা পৌঁছান।

নেপালি রুপি ফুরিয়ে আসার কথাও জানিয়েছেন তাসরিফ। তিনি বলেন, যতদিন থাকার পরিকল্পনা ছিল, সেই অনুযায়ীই তাদের কাছে টাকা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত দুই দিন অবস্থান করায় নেপালি রুপি ফুরিয়ে আসছিল। গ্রামাঞ্চল হওয়ায় সেখানে কার্ডে পেমেন্ট করার সুযোগও ছিল না।

তাসরিফ আরও লেখেন, নেপালের পর্যটন এলাকাগুলো যতই সুন্দর হোক, মানুষের আন্তরিকতার দিক থেকে বাংলাদেশের মানুষ তার কাছে এগিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাজেক ও সেন্টমার্টিনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে কোনো পর্যটক আটকা পড়লে অনেক সময় হোটেল বা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

তবে নেপালে আটকা পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তেমন কোনো নেতিবাচক অনুভূতি নেই তাসরিফের। বরং ফেরার পথে দীর্ঘ সময় হাঁটার কষ্টের চেয়েও চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশ তাকে বেশি মুগ্ধ করেছে।

সবশেষে নিজের ও দলের নিরাপত্তা নিয়ে ভক্তদের আশ্বস্ত করে তাসরিফ বলেন, তারা যথেষ্ট নিরাপদে আছেন এবং দুশ্চিন্তা করার মতো তেমন কিছু নেই। পাশাপাশি কোনো শিরোনাম দেখেই যেন বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

 

এলআইএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *