August 31, 2026

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির আকার ছোট করার চিন্তা

0
bnp3-20260830124902.jpg


রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুধু শূন্য পদ পূরণ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন নয়, আগামী জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দলের গঠনতন্ত্রেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চিন্তা চলছে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আকার কমিয়ে দলকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে নীতিনির্ধারকদের। এমনকি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল করার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় চলতি বছরে কাউন্সিল না করে আগামী বছরের শুরুর দিকে যাওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির এবারের প্রস্তুতির ধরনও আগের চেয়ে আলাদা। দল ও সরকারকে পৃথক রেখে সাংগঠনিক কাঠামো সাজানো, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা কেন্দ্রীয় পদ পূরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদলের আভাসপ্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গত ১৮ আগস্ট সাক্ষাৎ করেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং

কমবে কেন্দ্রীয় কমিটি, স্থায়ী কমিটির আকার নিয়েও ভাবনা

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, আগামী কাউন্সিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আকার কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টনের যে কাঠামো চলে আসছে, সেটি সময়োপযোগী ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

শুধু জাতীয় নির্বাহী কমিটিই নয়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির আকার নিয়েও নতুন করে ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটি রয়েছে। দল ও সরকারের দায়িত্ব পৃথকীকরণ, নেতৃত্বের কার্যকারিতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা কত করা হবে কিংবা বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনার পর কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে পারে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একটি বড় অংশের পদ বিভিন্ন কারণে শূন্য। আবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাওয়ার কারণে অনেক নেতা দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারছেন না। এ বাস্তবতায় শুধু পদ বাড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস এবং কেন্দ্রীয় ও নীতিনির্ধারণী কমিটির আকার যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চিন্তা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাঠামোয় পদসংখ্যা বাড়তে বাড়তে যে বিস্তৃত কাঠামো তৈরি হয়েছে, নতুন বাস্তবতায় সেটি আরও ছোট, কার্যকর ও দায়িত্বভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সক্রিয় রাখতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা এবং দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন জরুরি বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।

একই সঙ্গে গঠনতন্ত্রের যেসব ধারা বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। ফলে এবারের কাউন্সিলে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামোর আকার ও ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে। গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সিলে আসতে পারে।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদলের আভাসদলীয় নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছবি: বিএনপি 

ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাউন্সিলের প্রস্তুতি

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। এ সময়ে অবশ্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মুখ যুক্ত হয়েছেন, অনেকে পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর থেকেই জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সরকার গঠনের পর স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকেও কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়। তখন দলটির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, কাউন্সিল করতে হলে বেশ কিছু প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে হবে, তবে দ্রুত কাউন্সিল করার ইচ্ছা রয়েছে।

পরবর্তীসময়ে দলের একাধিক নীতিনির্ধারক চলতি বছরের মধ্যে কাউন্সিলের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে কেউ কেউ ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে।

এখন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে। ওই সময়ে সরকারের এক বছর পূর্ণ হবে। পাশাপাশি শীতকাল হওয়ায় কাউন্সিল আয়োজনের জন্য আবহাওয়াও অনুকূল থাকবে বলে মনে করেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে। তবে এটুকু বলতে পারি, খুব শিগগির হবে।’

দল ও সরকার আলাদা রাখার পরিকল্পনা

বিএনপি এবার সরকার পরিচালনার সঙ্গে দল পরিচালনার দায়িত্বের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করতে চাইছে। নির্বাচনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা মন্ত্রিসভা, সংসদ ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদকের পদও শূন্য হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও একাধিক পদ খালি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। দপ্তর সম্পাদকের পদে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করায় স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে একটি শূন্য। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদলের আভাসমহান মে দিবসে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে নেতাকর্মীদের একাংশ, ছবি: বিএনপি

৮২ সাংগঠনিক ইউনিটে বড় পুনর্বিন্যাস

কেন্দ্রের পাশাপাশি বিএনপির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এখন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে অধিকাংশ জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোনো কোনো ইউনিটে তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও প্রায় এক দশক ধরে একই কমিটি দায়িত্ব পালন করছে।

এ অবস্থায় বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও আহ্বায়ক কমিটি, কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কোথাও পুরোনো নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর, গোপালগঞ্জ সদর, কুমিল্লা মহানগর, কুমিল্লা উত্তর জেলা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

একইভাবে বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনেও নজর

জাতীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং সাংগঠনিক সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১২টি জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব বৈঠকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন, স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে না আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফরের মূল লক্ষ্যও হবে একই—তৃণমূলে নিয়ন্ত্রণ শক্ত করা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানো, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদলের আভাসবিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বগুড়া জেলা, থানা ও সিটি করপোরেশনের নেতারা। ২৯ আগস্ট তোলা/ছবি: বিএনপি

‘ওয়ান ম্যান, ওয়ান পোস্ট’ নিয়ে পুরোনো প্রস্তাব

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনের আলোচনা নতুন নয়। ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলেও গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় সংশোধনী কমিটির প্রধান ছিলেন বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।

বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের কর্মী ও রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহন জাগো নিউজকে বলেন, ২০০৯ সালের কাউন্সিলের সময় তিনি নিজেও গঠনতন্ত্র সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি তখন দপ্তর সম্পাদক পদটি সার্বক্ষণিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এ দায়িত্ব পালনের ব্যয় দল বহন করবে—এমন প্রস্তাবও ছিল। পাশাপাশি ‘ওয়ান ম্যান, ওয়ান পোস্ট’ নীতি চালু এবং গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

তার ভাষ্য, ‘ওয়ান ম্যান, ওয়ান পোস্ট’ নীতিটি তখন গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীসময়ে সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দপ্তর সম্পাদককে সার্বক্ষণিক করার প্রস্তাব নিয়ে তখন সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, দল এখন সরকারে এসেছে। ফলে দল পরিচালনা এবং সরকার পরিচালনা—দুই জায়গার দায়িত্ব সামলানোর জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

মহিউদ্দিন খান মোহনের ভাষায়, ‘এবার একটা কাউন্সিল হবে। নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হতে পারেন। অথবা যিনি ভারপ্রাপ্ত আছেন, তিনি ভারমুক্ত হতে পারেন। কিছু পদে রদবদল হবে। গতানুগতিক একটা কাউন্সিল হবে।’

নতুন প্রজন্ম সামনে আনার ভাবনা

বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের কেন্দ্রীয় এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের দায়িত্বে যাওয়ার কারণে দলের বিভিন্ন জায়গা ফাঁকা হয়েছে। এসব পদ পূরণ করতে হবে। প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে এবং দলের নেতৃত্বেও নতুন প্রজন্ম ও তরুণদের সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

কাউন্সিল ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদলের আভাসবিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতারা। ২০ আগস্ট তোলা/ছবি: বিএনপি

শীর্ষ নেতৃত্বেও পরিবর্তনের আভাস

কাউন্সিল সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আরও কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আগামী কাউন্সিলে এই পদ বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের কাউকে ভবিষ্যতে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা আছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

কেএইচ/এমএমএআর/ এমএফএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *