August 31, 2026

এমবাপ্পের গোলে মালাগাকে ৪-০ হারাল রিয়াল

0
6a951b5f35abb17881567676a951b5f35abf.jpg



কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন থামার নামই নিচ্ছেন না। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবারও জালের দেখা পেয়েছেন ফরাসি তারকা। তাঁর গোলের সঙ্গে জুড বেলিংহাম ও আরদা গুলারের লক্ষ্যভেদে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রিয়ালের হাতে। এই জয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় পেল জোসে মরিনিওর দল। দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর লিগে টানা তিন ম্যাচেই জয় পেলেন মরিনিও। এর আগে এস্পানিওলকে ২-১ এবং রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল।

অন্যদিকে মৌসুমের শুরুটা ভালো হয়নি মালাগার। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার সঙ্গে ড্র করেছিল তারা। বার্নাব্যুতে রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচটি যে তাদের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে, শুরু থেকেই তার ইঙ্গিত মিলছিল।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের হাফ ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোল না পেলেও শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জানান দেয় স্বাগতিকরা।

১৯ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় রিয়াল। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ কোণের শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। গোলটি নিয়ে মালাগা আপত্তি জানালেও ভিএআরের পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

এর মাত্র সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ দৌড়ের পর এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন মালাগার গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বল শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে আলফোনসো হেরেরোর নামে লেখা হয়।

৩০ মিনিটে অবশ্য নিজের নামেই গোল তুলে নেন এমবাপ্পে। ডান দিক থেকে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে শট নিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে লা লিগায় এলচে ছাড়া তিনি যেসব দলের বিপক্ষে খেলেছেন, বাকি ২২ দলের বিপক্ষেই গোল করার কীর্তি গড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় রিয়াল। তবে মালাগাও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। কর্নার থেকে রদ্রিগেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া সতীর্থদের ওপর তখন কিছুটা অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে রিয়াল। মাঝেমধ্যে ম্যাচের গতি দেখে মনে হচ্ছিল, এটি যেন তাদের অনুশীলন ম্যাচ। বেলিংহামের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে সহজ একটি সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার।

ম্যাচে রিয়ালের আরেকটি বিষয়ও ছিল চোখে পড়ার মতো—বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা। মরিনিওর দল মালাগাকে সহজে আক্রমণে উঠতে দেয়নি। মাঝমাঠে বেলিংহাম ও ডান প্রান্তে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড ছিলেন রিয়ালের অন্যতম সেরা পারফর্মার।

শেষ দিকে পেনাল্টির সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করেছিল মালাগা। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর তা বাতিল হয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে ম্যাচের শেষ গোলটি আসে রিয়ালের কাছ থেকে। হাউসেনের কাছ থেকে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে সহজেই বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা আরদা গুলার।

৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। টানা তিন জয়ে লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরিনিওর দল শুরুতেই বড় ব্যবধানে জিতে নিজেদের শক্তির জানান দিল।

তবে এই দারুণ শুরুর সবচেয়ে বড় আলো হয়ে থাকছেন একজনই—কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিকের পর এবারও গোল করে মৌসুমের শুরুতেই নিজের দুর্দান্ত ফর্মের বার্তা দিলেন ফরাসি তারকা।

আমার বাঙলা/ রাব্বি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *