September 8, 2026

আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

0
marufa-mtsha9qa6vqd11d-20260908153949.jpg


দুই দলের জনই অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল! এমন সমীকরণ সামনে রেখে আগে ব্যাটিং করতে নেমে যেন উইকেট বা প্রতিপক্ষের বোলিং, কিছুই বুঝতে উঠতে পারছিলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সুপ্তার ব্যাটে কোনোরকমে ১০০ রান পার করেন টাইগ্রেসরা। তবে বরাবরের মতো ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে বোলাররা জ্বলে উঠলেন, আর ছোট পুঁজি সত্ত্বেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তারা। এই জয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১০৩ রান করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জবাবে ৯ উইকেটে ৬৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর একই মাঠে রাত সাড়ে ৮টায় প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।

ছোট লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে নেমে আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বাংলাদেশকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই তার শিকার হয়ে ফেরেন আরব আমিরাত অধিনায়ক ইশা ওঝা। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে ফেরত পাঠান সামাইরা ধারনিধারকাকে। ২ উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আরব আমিরাত তুলতে পারে মাত্র ১৫ রান।

পাওয়ার প্লের পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলেছে বাংলাদেশ। দলীয় ২২ রানে রিনিথা রাজিথের উইকেট তুলে নেন রাবেয়া খাতুন। এরপর তীর্থ সাথিস ও হিনা মিলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৪ বলে ১১ রান করা তীর্থকে ফিরিয়ে ১৪ রানের জুটি ভেঙে দেন সুলতানা খাতুন। ২ রানের ব্যবধানে লাবন্য কেনিকে ফেরান নাহিদা আক্তার। দলীয় ৫৬ রানে হেনা ফেরার পর ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় আরব আমিরাত। ১৯ বলে ২ চারে ১৮ রান করেন হেনা।

অল্প রান রক্ষায় প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই এদিন মারুফার কোটা পূর্ণ করেন জ্যোতি। যেখানে ৯ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মারুফা। এছাড়া ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রাবেয়া আর নাহিদার শিকার ২ উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ফিরে যান দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা হয় মাত্র ২১ রান।

৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও আরেক ওপেনার জুয়ারিয়ারা ফেরদৌস মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরব আমিরাতের বোলারদের বিপক্ষে সিঙ্গেল খেলতেও ভুগছিলেন তারা। জ্যোতি তো প্রথম দিকে টানা ডট দিয়ে গেছেন। দুজনের ২৯ রানের জুটি ভাঙে অষ্টম ওভারে। ২০ বলে ২ চারে ১৬ রান করে ফেরেন জুয়ারিয়ারা।

তিন ওভার পর দলকে আরও বিপদে ফেলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন জ্যোতি। নিরীহ এক ফুলটসে বোলার সুরক্ষা কোটির হাতেই ক্যাচ দেন তিনি। ৩ চারে ২৩ রান করতে ২৮ বল খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর উইকেটে এসে প্রথম বলেই কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্বর্ণ আক্তার। পরের বলেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন ফাহিমা আক্তার।

৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন এই ম্যাচে একাদশে ফেরা অভিজ্ঞ শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৮ নম্বর ব্যাটার নাহিদা আক্তার একপ্রান্তে টিকে থেকে সঙ্গ দেন। দুজনে মিলে গড়েন ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এটাই ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি।

৩১ বলে ৩ চারে ৩৮ রান করে সুপ্তা ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। আর ২৬ বলে ১ চারে ১৬ রান করেন নাহিদা।

আরব আমিরাতের হয়ে ৪ ওভারে ১১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন সুরক্ষা।

এসকেডি/এমএমআর/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *