September 8, 2026

১৩ বছরেও শেষ হয়নি চেয়ারম্যান ফারুক হত্যার বিচার, স্বজনদের ক্ষোভ

0
faruk-2-20260908212456.jpg


টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলার বিচার ১৩ বছরেও শেষ হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা রফিকুল ইসলাম ফারুকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করেন। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন পরও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বলেন, ‌‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নির্দেশে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ১৩ বছরেও হত্যার বিচার হয়নি, এটা দুঃখজনক। আমরা এই হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।’

পরে শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়।

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *