September 9, 2026

অর্থনৈতিক অঞ্চলে হংকংয়ের ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

0
agement-mttwux7xkcfi07x-20260909154757.jpg


হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের বাইরে উচ্চপ্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের (এইচকেজিসিসি) চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কামের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সে তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন- দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ (সিইআইজেড) দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে), শুল্কমুক্ত মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সুবিধা। এর মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, ফল, পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য রপ্তানিতে হংকংয়ের বাজারকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ৭ দশমিক ২ শতাংশ আসে হংকং থেকে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি কার্যকর রয়েছে এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন চুক্তি (আইপিপিএ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।

বৈঠকে হংকংয়ের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ তহবিলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্স হংকংয়ের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি। ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি হংকংয়ের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে। বাংলাদেশে হংকংয়ের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও সংগঠনটি ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কাম।

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে হংকংয়ের ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য হংকং শুধু একটি বিনিয়োগ উৎস নয়, বরং চীনা ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সেতু। তাই হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে শিল্প বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

১৯৭৬ সালে হংকংয়ে বাংলাদেশের ট্রেড কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-হংকং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ও কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদ এবং ইনভেস্ট হংকংয়ের মহাপরিচালক আলফা লাউয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেন।

এনএইচ/বিএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *