September 9, 2026

মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম

0
1000178989-mtt5s0wvv7zn5nk-20260909031000.jpg


জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কাগজে-কলমে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলা হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন।

সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম ও ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বোরো মৌসুমের আগেই ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য।

বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের তথ্য উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম আলোর রিপোর্ট বলছে, ন্যায্যমূল্যের চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে সার পাচ্ছে না কৃষক। এটা জামায়াত বা বিরোধীদলের বট বাহিনীর কোনো রিপোর্ট না। সার সংকটের মধ্যে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গোডাউন ভর্তি। সরকারে সারের মজুত থাকলেও আবার সেই ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সিনড্রোম দেখা যাচ্ছে, যখন এক বস্তা সারের জন্য কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ছয়টি বন্ধ বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। মাছরাঙা নিউজে এসেছে ঝিনাইদহে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধের কথা। স্থানীয় জনগণ যদি আপনাদের বিরুদ্ধে নেমে যায়, তাদের উসকানি দিয়ে কৃষকদের লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে প্রকৃত ঘটনা সত্য এবং বাস্তবে তা-ই হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানবজমিনের গত ৮ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট, সারের জোয়ারে যখন ভাসছি আমরা এই সংসদে, তখন সার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ও বিভিন্ন স্থানে অবরোধের খবর প্রকাশ পাচ্ছে। ডেইলি স্টারের কৃত্রিম সংকটে সারের দাম বাড়া ও চাহিদা অনুযায়ী না পাওয়ার রিপোর্টেও ৩০০ বিধিতে কাউকে কথা বলতে দেখছি না। জয়পুরহাটে ন্যায্যমূল্যে সার মিলছে না, বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, এমনকি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আমার এলাকায় গিয়ে শুনতে হচ্ছে এমপি মহোদয় ডিসি বা ইউএনওর মাধ্যমে যে তালিকা দিয়েছেন, সেটিকে পাশ কাটিয়ে ভেতরের চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ডিলার নিয়োগের কাজ করছে। সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে আপনি কীভাবে সার সংকটের সমাধান করবেন?’

নিজের কৃষক পরিচয়ের আবেগ স্মরণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো বোরো মৌসুম শুরুর আগে আবার যদি কৃষক সার না পায়, আমরা কি বাংলাদেশকে আবার সেই কৃষকদের গুলির মুখে ফেলতে চাচ্ছি? সংসদে তো কথা বলার জন্য শুধু কথা বলা না, সংসদে কথা বলা একটি দায়িত্ব। আমাদের এলাকায় যখন আমরা যাই, কৃষকদের কাছে আমার দায়বদ্ধতা থাকে। আমি নিজে একজন কৃষক, আমি নাড়া কেটেছি, কলাই তুলেছি, বাবার সঙ্গে ঘাস ও আগাছা তুলতে গিয়েছি। সেই দরদের জায়গা থেকে আজকে গর্বিত যে এই কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। জাগো নিউজের সংবাদ ফেক বললে যুগান্তরের রিপোর্টেও উঠে এসেছে, অনেক ডিলার ব্যবসা না করে কমিশন নেয়। একজন ডিলার নিজের, স্ত্রীর, ছেলের বা স্বজনদের নামে ডিলারশিপ নিয়ে রাখা এবং সেখানে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই টাকা আমার কৃষকের ঘাম ও রক্ত দিয়ে উপার্জিত। এসবের মধ্যে এমপি থেকে কী লাভ? আমি ওই এমপি পদ ছেড়ে কৃষকদের সঙ্গে ক্ষেতে নামতে পারলে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম।’

সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামে রাতভর অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ২ হাজার ১৫০ কেজি সার জব্দ হয়েছে। গোডাউন ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে কৃষকরা, কেন গোডাউন ভাঙতে হলো? তার মানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে ভর্তুকির সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। কিছুদিন আগে উখিয়া ও টেকনাফে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, প্রভাবশালী চক্র সার পাচার করে ওখান থেকে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক আমাদের দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ভর্তুকির বদলে দেশে ফেরত আসছে বিষ। বিরোধীদলের নেতা যেমন বলেছিলেন, সার্বিকভাবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর করা না গেলে শুধু গাছের পাতা ছিঁড়ে এ দেশকে ভালো করা যাবে না। দেশের তরুণেরা সংস্কারের জন্য জীবন দিয়েছে, কোথাও শুধু ‘সংশোধন’ লেখা ছিল না।’

ইতি টেনে শফিকুল ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ও গুজবের কারণে কৃষক আজ আস্থা সংকটে ভুগছে এবং অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। এই অস্থিরতা থেকে বাঁচতে আমাদের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমদানির ওপর নির্ভর না করে বোরো মৌসুমের আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপির ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু বিতরণ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা গেলে তবেই কৃষক রেহাই পাবে।’

এমওএস/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *