September 7, 2026

অভিযানের পরও চলছিল জুয়ার আসর, ফের উচ্ছেদ

0
og_1788794962_6a9ed85294058.jpeg


চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী খালপাড় এলাকায় ফের জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পরিত্যক্ত ডোবার ওপর টিন ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ ছিল ওসমান (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে গত ৩ জুন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একই ধরনের একটি জুয়ার ঘর ভেঙে দেওয়া হয়।

ওই অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে একটি আমবাগানের জঙ্গলের মধ্যে নতুন করে অস্থায়ী টংঘর নির্মাণ করে জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর ইপিজেড থানা পুলিশ অভিযান চালায়। এসআই আবু বকরের নেতৃত্বে ওই অভিযানে ছয়জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় জুয়া প্রতিরোধ দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, পুলিশি অভিযানের পরও জুয়ার আস্তানাটি চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পুলিশ যাতে সহজে সেখানে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য যাওয়ার পথে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলার মতো কৌশল নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জুয়া ও মাদক সেবনের আসর বসায় আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।

বারবার অভিযান চালিয়েও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা জুয়ার ঘরটি স্থায়ীভাবে অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে সোমবার অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ইপিজেড থানার এসআই মো. মামুনুর রশিদ, এসআই মো. কামরুজ্জামানসহ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা চসিকের অভিযানকারী দলকে সহযোগিতা করেন। পরে জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।

অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। জুয়ার ঘরটি উচ্ছেদের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান তারা।

এমআরএএইচ/এমআইএইচএস



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *