সৈকতে নির্মাণকাজ: চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি মঙ্গলবার
‘আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে’ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করায় জেলা প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে করা আবেদন শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিন ঠিক করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করা হয়।
আদালত জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিটটিও একই সঙ্গে শুনানি হবে।
আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডিএজি নূর মোহাম্মদ আজমী।
এর আগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে মর্মে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করে। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয় আজ।
জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনে এর আগে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং শুনানি শেষে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণকৃত সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুইবার বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতরে নির্মাণকাজ শুরু করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আবেদনটি করা হয়।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১০ সালে যখন সমুদ্র সৈকত দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছিল জনস্বার্থে তখন রিট পিটিশন দায়ের করে সমুদ্র সৈকত সুরক্ষার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা বালিয়াড়িতে স্থাপিত সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু গত ২৪ আগস্টের পরে আবার বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ করে সৈকত দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আদালত অবমাননার শামিল।
এফএইচ/এমকেআর

