September 13, 2026

ব্রিকসের মঞ্চে বন্ধুত্বের ছবি, আড়ালে ভিন্ন হিসাব

0
modi-putin-jinping-delhi-12-sept-2026-brics-fbmodi-20260913124332.jpg


ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশটি আবারও নয়াদিল্লিতে বসেছে। এবারের ‘জোশ’ বা উত্তেজনাতেও যেন বাড়তি মাত্রা রয়েছে।

উজ্জ্বল রঙের পটভূমি আর যুদ্ধের ঢাকের মতো আবহসংগীতের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে দেখানো হচ্ছে অতিরঞ্জিত সব ছবিতে। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি খুব একটা গোপন নয়: এই তিন নেতা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে হাত মিলিয়েছেন। অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘জায়গা’ বুঝিয়ে দিতে একজোট হয়েছেন।

সব সরকারই, বিশেষ করে শক্তিমান বা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো, নিজেদের ভাবমূর্তি গড়তে শীর্ষ সম্মেলনকে ব্যবহার করে। মোদী সরকার একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু ব্রিকসের ক্ষেত্রে সংগঠনটির গঠন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য বিবেচনা করলে বিষয়গুলো এত সহজে এক জায়গায় মেলে না।

ব্রিকস সম্মেলনে মোদী, জিনপিং ও পুতিন/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

বৈপরীত্যই যেখানে বেশি

এই উন্মত্ত প্রচারণায় যেভাবে তিন শক্তিমান নেতাকে তুলে ধরা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে বৈপরীত্যই বেশি। প্রত্যেকেরই আলাদা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, একইভাবে রয়েছে আলাদা প্রতিপক্ষও।

রাশিয়া চীনের মিত্র—কিছুটা হলেও চীনের ওপর নির্ভরশীল। ভারত চীনকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। আর চীন অন্য দুই দেশকে এতটাই দুর্বল মনে করে যে, খেলার নিয়ম সে-ই ঠিক করতে পারে এবং একই সঙ্গে আম্পায়ারের ভূমিকাও পালন করতে পারে।

নির্মম সত্য হলো, এ ধরনের আন্তর্জাতিক জোটগুলোর মধ্যে ব্রিকসই সম্ভবত সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক। ন্যাটো কীসের প্রতিনিধিত্ব করে, বা করার কথা—আমরা তা জানি। অন্যগুলোরও পরিচয় নির্দিষ্ট করা যায়। ব্রিকসের সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ হতে পারে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও। কিন্তু সেখানে চীনের আধিপত্য প্রায় আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত। এসসিও মূলত চীনের বহুপক্ষীয় সংগঠন।

এ কারণেই বলা যায়, এসসিওর অন্তত একটি উদ্দেশ্য আছে। এমনকি ৫৭ সদস্যের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির মতো তুলনামূলকভাবে অকার্যকর সংগঠনেরও অন্তত একটি অভিন্ন বন্ধন রয়েছে—ইসলাম। অবশ্য ইসলামী বিশ্বের ভেতরের এত সংকট ও যুদ্ধ, যেমন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান বিরোধ, এসব ক্ষেত্রে ওআইসিকে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে মিল কোথায়?

ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন বিষয়টি কী? এটি কি ট্রাম্প বা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে একটি যৌথ ফ্রন্ট? মোটেও তা নয়।

পুতিন ও ট্রাম্প যেন পরস্পরের প্রশংসায় মুগ্ধ এক জুটি। শি জিনপিংও শিগগির যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমস্যাগুলো মেরামতের চেষ্টা করবেন। তিনি ট্রাম্পকে তার নিজের দিকে মনোযোগ ফেরানোর নীতি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবেন— ‘আমেরিকা প্রথম’এবং শেষও আমেরিকা, তাইওয়ানকে ভুলে যান।

চীনের জন্য ট্রাম্প বড় খবর। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটগুলোকে দুর্বল করছেন। এসব দেশের কিছু হয়তো নিজেদের জন্য হুমকির মাত্রা কমাতে চীনের দিকে ঝুঁকবে। তখন বেইজিং সেই দেশগুলোর কাছ থেকে নানা ছাড় আদায় করবে।

অন্যদিকে, দুর্বল ও ছোট দেশগুলো—বিশেষ করে যেসব দেশকে ভারতীয় মহলে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অংশ হিসেবে দেখা হয়—তারা এরই মধ্যে চীনকে নতুন আধিপত্যশীল শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং তাকে ‘সালাম’ করছে। অন্তত শি জিনপিং ট্রাম্পের মতো প্রকাশ্যে আপনাকে অপমান করবেন না।

ব্রিকস সম্মেলনে মোদী, জিনপিং, পুতিন ও মাসুদ পেজেশকিয়ান/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

রাশিয়ার হিসাব

রাশিয়ার কথা বললে, এটি এমন এক বিশাল শক্তি যার সঙ্গে চীনের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। রাশিয়ার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের একটি নিরাপদ উৎসও রয়েছে।

সেক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শ্রেণিতে পড়ে। সেখানে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে এবং সীমান্তে সামরিকীকরণও চলমান। বাণিজ্য বাড়াতে হলে শি জিনপিংয়ের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর ভারত-চীন বাণিজ্য যেমনটা সবাই জানে- একতরফা।

এই মুহূর্তে ১১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ব্যবধান নিয়ে ভারতের অংশ চীনের মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মাত্র ১০ শতাংশের একটু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে আসায় শি জিনপিং বিকল্প বাজার ও অংশীদার খুঁজছেন। পছন্দ হোক বা না হোক, ভারত সেখানে জায়গা করে নিয়েছে।

এখন চীনের জনমিতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার পতনের কারণে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তার জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই শি জিনপিং ভারতের সঙ্গে সীমান্তে আপাতত কিছুটা বিরতি নিয়েছেন।

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সময় কিনছে চীন?

১৯৮৮ সালে দেং শিয়াওপিং বেইজিংয়ে রাজীব গান্ধীকে বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের হয়তো সীমান্ত সমস্যা সমাধানের মতো প্রজ্ঞা নেই। তাই এটি ভবিষ্যতের আরও প্রজ্ঞাবান প্রজন্মের জন্য রেখে দেই।’

শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখনো আসেনি। তিনি বরং আরও সময় কিনতে চান, যতক্ষণ না চীন ও ভারতের মধ্যকার ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে ভারতকে ভারসাম্যহীন রাখতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করার সুযোগ তার রয়েছে।

পুতিনও জিনপিংয়ের মতো ন্যাটোর দুর্বলতায় খুশি। তিনি হয়তো মনে করছেন, ইউক্রেন নিয়ে একটি সমঝোতা করে বিজয় ঘোষণা করতে পারবেন। অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কিয়েভকে সহায়তা কমে গেলে এবং ইউরোপ অস্বস্তিতে পড়লে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন।

সংক্ষেপে বললে, শি জিনপিং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একত্রিত করছেন না। পুতিনও এমন কোনো অভিযানে যোগ দিচ্ছেন না।

পুতিন ও মোদী/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

রাশিয়ার কাছে ভারত কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের সঙ্গে পুতিনের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে তার প্রথম স্বার্থও জিনপিংয়ের মতোই—একতরফা বাণিজ্যিক সম্পর্ক।

চীন ছাড়া অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ভারত বেশি রুশ তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এর জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদও জানাতে রাজি। একই সঙ্গে রুশ অস্ত্রের বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে ভারত এখনো অনেক দূর এগিয়ে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে।

তেলের বাণিজ্যের কারণে রাশিয়া ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তও ভোগ করছে।

তবে রাশিয়া তুলনামূলকভাবে নমনীয় বাণিজ্য অংশীদার এবং এমন কিছু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত, যা অন্য কোনো দেশ ভারতকে দিতে চাইবে না।

কিন্তু এর বাইরে যদি কেউ মনে করে, পুতিন ভারতকে রাশিয়া বা চীনের সমপর্যায়ের কোনো শক্তি বা সমকক্ষ হিসেবে দেখেন, তাহলে তার আবার ভাবা উচিত।

ব্রিকস সম্মেলনের পেছনের সমীকরণ

এই সমীকরণগুলোই এবারের ব্রিকস সম্মেলনের পটভূমি তৈরি করেছে। ভারত এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা পক্ষ নয়, তার আতিথেয়তা যতই চমৎকার হোক না কেন।

কথাটি বলা কঠিন, কিন্তু সত্য বলতেই হবে। আজকের ভারতকে অনেকটা চীন ও রাশিয়ার আধুনিক বাণিজ্যিক উপনিবেশের মতো দেখাচ্ছে। ভারতকে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি মেনে নিতে হচ্ছে, কারণ দেশটি মূলত সেসব পণ্যই কিনছে, যেগুলো তার অত্যন্ত প্রয়োজন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন থেকে যন্ত্রাংশ, উপকরণ বা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক না গেলে ভারতের অনেক রপ্তানি কার্যক্রমই থেমে যাবে। বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর হলেও সত্য, চীনা আমদানির সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী হলো ভারতের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল।

এর পাশাপাশি, ভারতের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে শান্তি প্রয়োজন। আগামী পাঁচ বছর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুই ধরনের আমদানি-নির্ভরতা ভারতের দর-কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় যে তিন শক্তিমান নেতাকে পাশাপাশি দেখিয়ে ভারতের শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেখানেও ভারত আসলে বড় দলে নেই।

ট্রাম্পের যুগ মধ্যম শক্তি ও দোদুল্যমান রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

ব্রিকস সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা/ ছবি: ফেসবুক@মোদী

যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা ও ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ভাবনা

ভারতের প্রভাবশালী কিছু বিশ্লেষক ও সরকারপন্থি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশের উত্তেজনার উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনিবার্য পতন এবং ডি-ডলারাইজেশন নিয়ে তাদের নানা কল্পনা।

এই শক্তিশালী অংশটি ব্যক্তিগত আক্রমণনির্ভর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতায় এতটাই আচ্ছন্ন যে ‘দুষ্টু পশ্চিমকে’ মোকাবিলা করতে তারা শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও হাত মেলাতে প্রস্তুত।

কিন্তু তারা কি চীনের সীমান্তসংক্রান্ত দাবিও মেনে নেবে? সেটি নিশ্চিত নয়।

‘শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু’—এই ধারণাটি এখানে সরলীকৃত তো বটেই, বরং বোকামির পর্যায়ে পড়ে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু হিসেবে নয়, সমান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের শত্রু নয়।

পরপর তিনজন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্বাভাবিক কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। নরেন্দ্র মোদী এ কথা মনমোহন সিং ও অটল বিহারি বাজপেয়ী দুজনের সম্মিলিত সময়ের চেয়েও বেশিবার বলেছেন।

এই সর্বগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতার পেছনে কী ধরনের ‘রক্তের শত্রুতার’ মানসিকতা কাজ করে, তা নিয়ে একটি বই লেখার মতো আরও বিচক্ষণ কোনো মন দরকার। শুধু এটুকু বলা যায়, মোদী সরকারের মধ্যে এ ধরনের কোনো আবেশ নেই।

ডি-ডলারাইজেশনের পর কী?

আর ডি-ডলারাইজেশন? যদি মার্কিন ডলার হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, তাহলে তার জায়গা নেবে কে? ‘ব্রিকস মুদ্রা’ নামের সেই কৌতুক?

কিছু পরিসংখ্যান দেখুন। ব্রিকসের ১০টি দেশ মিলিয়ে মোট জিডিপি ১৪ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আর শুধু চীনের জিডিপিই ২০ দশমিক ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

ব্রিকসের মূল সদস্য ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মিলিত জিডিপি ৯ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার—যা চীনের অর্ধেকেরও কম।

আপনি যদি মার্কিন ডলারের অবসান চান, তাহলে কি ইউয়ানের যুগে বসবাস করতে প্রস্তুত? মার্কিন ডলারের জায়গা ভারতীয় রুপি নেবে না। রুশ রুবলও নেবে না।

ব্রিকসের আসল শিক্ষা কী?

বহুপক্ষীয় সম্মেলনের অবশ্যই একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও নেতাদের কথা বলার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে এসব সম্মেলন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা বিপজ্জনক এক ধরনের বিভ্রম।

এই সম্মেলন যদি কোনো কিছু মনে করিয়ে দেয়, তা হলো ভারতের শক্তি নয়, বরং দেশটির দুর্বলতা। এটি তাদের আরও বাস্তববাদী করে তোলা উচিত এবং সামনে এগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজে মনোযোগী করা উচিত।

লেখক: শেখর গুপ্ত, এডিটর ইন-চিফ, দ্য প্রিন্ট
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
কেএএ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *