September 2, 2026

সুজি নাকি আটা, কোন উপকরণে বানানো ফুচকা স্বাস্থ্যকর?

0
45jed-1-mti6r4jjvwmopi7-20260901105043.jpg


ফুচকা বাঙালির অন্যতম প্রিয় স্ট্রিট ফুড। মুচমুচে , ঝাল-মসলাদার পুর আর টক-ঝাল পানির সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার দেখলেই অনেকের জিভে পানি আসে। তবে স্বাদের পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়েও এখন সচেতন হচ্ছেন অনেকে।

তখনই প্রশ্ন আসে-ফুচকা যদি সুজির বদলে আটা দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে কি সেটি তুলনামূলক ভালো?

সহজ উত্তর হলো, সম্পূর্ণ গমের আটা দিয়ে তৈরি ফুচকা কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ফুচকার উপকরণ দিয়ে ফুচকাকে স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর বলা যায় না। কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আটার ফুচকায় ফাইবারের সুবিধা

সম্পূর্ণ গমের আটা ব্যবহার করলে ফুচকার খোলসে খাদ্যআঁশের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ফাইবার হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং খাবারের পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। ফলে একই পরিমাণ ফুচকা খাওয়ার পর আটার তৈরি ফুচকা কিছুটা বেশি তৃপ্তি দিতে পারে।

অন্যদিকে সুজিও গমজাত উপকরণ। এতে কার্বোহাইড্রেটসহ কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে সম্পূর্ণ গমের আটার সঙ্গে তুলনা করলে ফাইবারের ক্ষেত্রে সাধারণত সেটি পিছিয়ে থাকে।

শুধু সুজিকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়

সুজির ফুচকা মানেই অস্বাস্থ্যকর-এমন ধারণা ঠিক নয়। খাবারের পুষ্টিমান নির্ভর করে শুধু একটি উপকরণের ওপর নয়, পুরো রেসিপি, রান্নার পদ্ধতি ও পরিমাণের ওপরও তা নির্ভর করে।

ফুচকা তৈরিতে সুজি ব্যবহার করা হলেও যদি তেল কম শোষণ করে এবং পুরে পরিমিত উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটি তুলনামূলকভাবে হালকা হতে পারে। একইভাবে আটার ফুচকাও বেশি তেলে ভাজা হলে তার ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

ভাজার তেলও বড় বিষয়

ফুচকা সাধারণত তেলে ভেজে তৈরি করা হয়। তাই খোলসটি কতটা তেল শোষণ করছে, সেটি খাবারের মোট ক্যালরির ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা ফুচকা নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যায় না।

এ কারণে ‘আটা মানেই স্বাস্থ্যকর’-এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আটার খোলস হলেও যদি তা অতিরিক্ত তেলে ভাজা হয়, তাহলে স্বাস্থ্যগুণের সুবিধা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

ফুচকার পুর ও পানির কথাও ভাবুন

ফুচকার স্বাস্থ্যমান বিচার করতে খোলসের পাশাপাশি পুরের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। আলু, ছোলা, মসলা, লবণ ও অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ খাবারটির পুষ্টিগুণে প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত লবণ বা তেলযুক্ত পুর নিয়মিত বেশি খাওয়া ভালো অভ্যাস নয়।

টক-ঝাল পানির ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে খাওয়ার সময় পানি ও অন্যান্য উপকরণ কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা সবসময় জানা সম্ভব হয় না। তাই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যায় এমন জায়গা থেকে ফুচকা খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ।

ঘরে বানালে নিয়ন্ত্রণ থাকবে বেশি

ফুচকার প্রতি ভালোবাসা থাকলে মাঝে মাঝে ঘরেই তৈরি করতে পারেন। এতে তৈরিতে সম্পূর্ণ গমের আটা ব্যবহার করা, তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরে আলু-ছোলার সঙ্গে বিভিন্ন সবজি বা মসলা পরিমিতভাবে যোগ করা সহজ হয়। টক-ঝাল পানিও নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরি করা যায়।

সুজি ও আটার মধ্যে তুলনা করলে সম্পূর্ণ গমের আটার ফুচকা ফাইবারের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। কিন্তু ফুচকাকে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় রাখার আগে এর রান্নার পদ্ধতি, তেলের ব্যবহার, পুর, পানি এবং খাওয়ার পরিমাণ-সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।

তাই ফুচকা খেতে চাইলে পছন্দের খোলস বেছে নিন, তবে পরিমাণে সংযম রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মাঝে মাঝে উপভোগ করার খাবার হিসেবেই ফুচকাকে রাখাই ভালো।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএকেওয়াই



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *