September 3, 2026

যানজটের আসল দায়ী প্রাইভেট কার নাকি রিকশা: ঋআজ মোর্শেদ

0
jagonewsimage-5-mtiwh11tq60s1xa-20260901225117.jpg


বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগকে একতরফা শ্রেণিযুদ্ধ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋআজ মোর্শেদ। নিম্নমানের ব্যাটারি আমদানিকারক সিন্ডিকেট ও যানজট সৃষ্টিকারী প্রাইভেট কারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে রিকশাচালকদের ওপর জুলুম বন্ধের দাবি জানান তিনি।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋআজ মোর্শেদ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক একটা বিশাল গাড়িতে একা একজন বসে থাকা ওই তথাকথিত অভিজাত শ্রেণি, নাকি পুরো শহরকে সস্তায় টেনে নিয়ে চলা এই ব্যাটারি রিকশাওয়ালারা? অথচ যত দোষ, যত লাঠিপেটা, যত সাজা—সব এসে পড়ে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ওপর!’

‘এটা কোনো ট্রাফিক শৃঙ্খলার গল্প নয়, এটা একেবারে খোলাখুলি একতরফা শ্রেণিযুদ্ধ। লুটেরা আমলাতন্ত্র আর শোষক গোষ্ঠী হাত মিলিয়েছে যেন সাধারণ যাত্রী আর রিকশাচালকেরা আধুনিক প্রযুক্তির একটুখানি সুবিধা না পায়, যেন রাজপথগুলো স্রেফ বড়লোকদের দামি গাড়ির চাকা ঘোরানোর জন্য ফাঁকা রাখা যায়।’

ঋআজ মোর্শেদ লেখেন, ​‘মানুষকে দিয়ে পশুর মতো গাড়ি টানানোর অমানুষিক প্যাডেল রিকশার হাত থেকে এই ব্যাটারি প্রযুক্তি আমাদের মুক্তি দিয়েছিল। এই একটা আবিষ্কার হাজার হাজার চালকের শরীরের ওপর নির্যাতন কমিয়েছে, ছাত্র-শিক্ষক-চাকরিজীবী কোটি মানুষের যাতায়াতের সময় আর টাকা বাঁচিয়েছে। এই প্রযুক্তি ধ্বংস করার অর্থ হলো একটা পুরো জাতিকে আবার মধ্যযুগের অমানুষিক যন্ত্রণায় ফেরত পাঠানো।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘​পরিবেশের ফালতু দোহাই দিয়ে চালকদের পেটে লাথি মারবেন না। সত্যি যদি পরিবেশের চিন্তা থাকে, তবে সাহস দেখিয়ে সেই সিন্ডিকেটের ঘাড়ে হাত দিন, যারা বিদেশ থেকে বিষাক্ত ও নিম্নমানের ব্যাটারি এনে বাজার ভাসিয়ে দিচ্ছে। ​পরিবেশ ধ্বংসকারী ব্যাটারি আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করুন।’

‘​দেশেই মানসম্মত, পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি তৈরি ও পুনর্ব্যবহারের কারখানা গড়ে তুলুন। ​আসল অপরাধী সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার না করে রিকশাচালকের রিকশা ভেঙে ফেলা কোন ধরনের বিচার? ​রাস্তা কোনো মন্ত্রী, এমপি বা আমলার পারিবারিক সম্পত্তি নয়—রাস্তা এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের।’

তিনি লেখেন, ‘​আমরাও রাস্তায় শৃঙ্খলা চাই। রিকশাচালক ট্রাফিক আইন ভাঙলে তাকে জরিমানার আওতায় আনুন, কিন্তু একই লাঠি দিয়ে বেপরোয়া বাস আর ক্ষমতাশালীদের প্রাইভেটকারের চালকদেরও সাইজ করুন। আগামী দুই বছরের মধ্যে একটা মাস্টারপ্যান সামনে আনুন, গণপরিবহনকে এমন স্তরে নিয়ে যান যেন মানুষ নিজেই রিকশার ওপর নির্ভরতা কমায়। কিন্তু ঢাকার এই জটিল অলিগলিতে রিকশার বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না।’

‘​বিকল্প না দিয়ে, কোনো মাস্টারপ্যান না দেখিয়ে স্রেফ গায়ের জোরে ঢাকার কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম বন্ধ করতে যাওয়াটা মূর্খতা আর অন্ধ দম্ভ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

মনে রাখবেন, এই কোটি কোটি যাত্রী আর চালকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে তারা যখন রাজপথে নামবে, তখন আপনাদের কোনো ক্ষমতার দাপট টিকবে না। গরিবের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটিতে হাত দিয়ে পুরো দেশটাকে এক ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির মুখে ঠেলে দেবেন না!

এমআরএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *