সিয়েরা লিওনে ই-কেস ফাইলিং সিস্টেম তৈরির কাজ পেল ড্রিম৭১
দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড এবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের বিচার বিভাগের জন্য ইলেকট্রনিক কেস ফাইলিং সিস্টেম (ই-কেস ফাইলিং) তৈরি করবে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অধীনে প্রতিষ্ঠানটি সে দেশে কাজটি করবে। এরই মধ্যে চুক্তিও সই হয়েছে।
ইউএনডিপির ‘স্পটলাইট ইনিশিয়েটিভ ২.০’-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সিয়েরা লিওনের আইন মন্ত্রণালয় এবং সিয়েরা লিওন পুলিশের ফ্যামিলি সাপোর্ট ইউনিটের (এফএসইউ) মধ্যে মামলা ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পটি শুধু ড্রিম৭১-এর জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, ইউএনডিপির আরও একটি প্রকল্প পাওয়া প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই জটিল ডিজিটাল সমাধান দিতে সক্ষম হয়ে উঠছে। আমরা বাংলাদেশের আইসিটি দক্ষতাকে আরও বেশি দেশে নিয়ে যেতে চাই।
জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় একটি সমন্বিত ডিজিটাল ফাইলিং কাঠামো তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে মামলার নম্বর ও শ্রেণিবিন্যাস, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, রেফারেল ট্র্যাকিং এবং মুলতবি কার্যক্রমের বিষয়ে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তার ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া মামলাসংক্রান্ত তথ্যের নিরাপদ ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রটোকলও তৈরি করা হবে।
দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার ক্ষেত্রে ড্রিম৭১ এর অভিজ্ঞতার ঝুঁলি ক্রমেই বড় হচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পূর্ব তিমুর, জাম্বিয়া, তুরস্ক, গাম্বিয়া, লেসোথো, উগান্ডা, আফগানিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ড্রিম৭১ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইউএনডিপির ১৯টি প্রকল্পে কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার সমাধান দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আইসিটি সেবা রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিধি বাড়ার বিষয়টিকে দেশের আইসিটি খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইএইচটি/এএসএ

