সাড়ে ৬ কোটি বছর পর মিলল ডাইনোসরের চলার পথ
জীবাশ্মবিদেরা এমন এক জীবাশ্ম পদচিহ্নের সন্ধান পেয়েছেন, যেটিকে পূর্ণবয়স্ক টাইরানোসরাস রেক্স (টি-রেক্স)-এর প্রথম পরিচিত চলার পথ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, মন্টানা সীমান্তের কাছে মারমার্থ এলাকায় এই আবিষ্কার হয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল জমিতে গত বছর পাশাপাশি থাকা চারটি সংযুক্ত পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেন গবেষকেরা। এ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ভার্টিব্রেট প্যালেওন্টোলজি-তে। গবেষকদের দাবি, এটি পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রথম নিশ্চিত চলার পথ।
প্রতিটি পদচিহ্নের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট বা ০.৯ মিটার। এক ছাপ থেকে পরের ছাপের দূরত্ব প্রায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার। ছাপগুলোর আকার, গঠন ও বিন্যাস বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এগুলোকে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের পদচিহ্ন হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
এর আগে বিশ্বে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের মাত্র দুটি নিশ্চিত পদচিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল—একটি নিউ মেক্সিকোতে এবং অন্যটি মন্টানায়। তবে সেগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ছাপ। ফলে প্রাণীটি কীভাবে চলাফেরা করত, সে সম্পর্কে সেগুলো থেকে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সের মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্মবিদ্যার জ্যেষ্ঠ কিউরেটর টাইলার লাইসন বলেন, হাড় থেকে কোনো প্রাণীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু পায়ের ছাপ সেই প্রাণীর আচরণের একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে।
আর যখন একই প্রাণীর একাধিক পদচিহ্ন ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায়, তখন তার চলাফেরার ধরনও বোঝা সম্ভব হয়।
গবেষকেরা উচ্চ-রেজল্যুশনের থ্রিডি স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পদচিহ্নগুলোর বিস্তারিত ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করেছেন। এতে মূল জীবাশ্ম অক্ষত রেখেই ছাপগুলো বিশ্লেষণ ও প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
পদচিহ্ন বিশ্লেষণ করে টি-রেক্সের চলার গতিরও ধারণা পেয়েছেন গবেষকেরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রাণীটি ঘণ্টায় প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.৫ মাইল বেগে চলছিল। অর্থাৎ একজন মানুষের দ্রুত হাঁটার গতির কাছাকাছি। গবেষকদের ধারণা, টি-রেক্সটি তখন দৌড়াচ্ছিল না, বরং হাঁটছিল।
তবে প্রায় কোটি কোটি বছর ধরে আবহাওয়া ও ক্ষয়ের প্রভাবে পদচিহ্নগুলোর কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে গতির হিসাব পুরোপুরি নির্ভুল নয় বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
চারটি পদচিহ্নের মধ্যে তিনটি উদ্ধার করে ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হেলিকপ্টারে করে সেগুলো স্থানান্তর করা হবে। এরপর জাদুঘরে এগুলো সংরক্ষণ ও আরও গবেষণা করা হবে।
প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত টি-রেক্স। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ দিকে এটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ শিকারি। ডাইনোসর বিলুপ্তির আগে পৃথিবীতে থাকা শেষ দিকের অ-পাখি ডাইনোসরগুলোরও একটি ছিল এটি।
পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের কোমর পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ ফুট হতে পারত।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
Source link
