September 5, 2026

‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করবো না: পানিসম্পদমন্ত্রী

0
og_1788531057_6a9ad17171535.jpeg


‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমান—সবাই বাংলাদেশি। নিজেদের মধ্যে বিভাজন না করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন করেন তিনি। র‌্যালিটি জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পাহাড়ে যারা থাকেন তারা পাহাড়ি বা আদিবাসী। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং আমরা যারা মুসলমান ধর্মের আছি, মুসলমান। আমরা সবাই বাংলাদেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ প্রথম।’ এখানে সংখ্যালঘু বলতে কোনো ধারা, কোনো কথা, কোনো শব্দ আমরা ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করবো না, তাতে জাতি খাটো হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য এই আহ্বানটুকু খুব বেশি প্রয়োজন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রাজনীতি উপহার দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মাত্র ছয় মাস হলো নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে নির্বাচন, ১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা শপথ নিয়েছি। তাই এই কথা বলার সুযোগ নেই যে, এই ছয় মাসের মধ্যে আমরা সমাজে সবকিছু উন্নত করে ফেলেছি, সব অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি। তবে আমাদের উদ্যোগ মহৎ।

এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবাই মিলে সমাজকে উন্নত জীবনযাপনের উপযোগী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক করে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংসের কারাগার ছিল অত্যাচারের প্রতীক। সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। সমাজের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কল্যাণকে সামনে রেখেই দিনটি পালিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শৈবাল কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ দুলাল দাস, জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মাখন লাল সাহা ও সদস্য সচিব উত্তম দেবনাথ প্রমুখ।

কাজল কায়েস/কেএইচকে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *