যমজ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় নির্যাতন, দুই সন্তানকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা
ভারতের মহারাষ্ট্রের ধরাশিব জেলার বিখ্যাত নলদুর্গ দুর্গের ছাদ থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে লাফিয়ে এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে যৌতুকের জন্য ও জমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে নির্যাতন করা হতো।
পুলিশ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জানায়, এ ঘটনার পরপরই তিনজনের মৃত্যুতে ওই নারীর স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)। এ ঘটনায় ওই নারীর আরও এক মেয়ে সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আশ্বিনি মনোহর পল (৩০) নামের ওই নারী ভাঁতাল গ্রামে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তিনি তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজিঙ্কা ও আড়াই বছর বয়সী জমজ মেয়ে বীর ও ক্রান্তিকে নিয়ে ওই দুর্গে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। খবর এনডিটিভির।
এক কর্মকর্তা জানান, পরে ওই দুর্গের সবচেয়ে উঁচু স্থান থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে পড়ে যান ওই নারী।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় একটি দুর্ঘটনার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই নারীর বাবা একটি অভিযোগ করেন যার ভিত্তিতে পরে ওই নারীর স্বামী, শ্বশুর ও দুই নারী প্রতিবেশীর নামে নলদুর্গ পুলিশ স্টেশনে মামলা হয়। তবে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ওই নারীর বাবার অভিযোগ, অভিযুক্তরা যমজ মেয়ে জন্ম দেওয়ার অপরাধে ও যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। তারা তাকে সোনার গহনা নিয়ে যাওয়ার জন্য ও একটি অটোরিকশা কেনার অর্থ নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৮০, ১০৮, ৮৫ ও ৩ (৫) ধারায় মামলা হয়েছে।
এএমএ

