September 12, 2026

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে তালবাহানা ভারতের আদানির!

0
6aa52e055110717892101176aa52e0551118.jpg



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে না যাওয়ার সরকারি ঘোষণার ঠিক পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় নতুন করে তীব্র হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। এই সময়গত নৈকট্য নিয়ে দেশজুড়ে এখন নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ঘটনাটি কি নিছক কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের ধারাবাহিকতা, নাকি ঢাকা-দিল্লির চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ফল—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরালো আলোচনা।

ভারতের সফরে অনীহা ও ব্রিকস সম্মেলন বর্জন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে তার না যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর ঘোষণা দেন যে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন না। ঢাকার পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয় যে, ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন।

আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসের নেপথ্যে কী?
প্রধানমন্ত্রীর সফর না করার ঘোষণার পরদিনই ভারতের আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। একই সময়ে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে থেকেই দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা বেশ চাপে ছিল। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকটের কারণে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে, ভারতীয় রেলপথে জট ও কয়লা পরিবহনে বিধিনিষেধের কারণে গোড্ডা কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বয়লারের ফিড ইউনিটে অতিরিক্ত উত্তাপের সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে এবং সেটি ঠান্ডা হয়ে মেরামতের কাজ শেষ করে উৎপাদনে ফিরতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।

চুক্তির শর্ত ও দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা
২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ মূলত বিদ্যুৎ কিনে আসছে। এটি বর্তমান সরকারের করা চুক্তি না হলেও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার প্রশ্নটি এখন সামনে চলে এসেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি সংগ্রহ, উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সরবরাহ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট দায় থাকে। সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশ কী ধরনের ক্ষতিপূরণ বা চুক্তিগত প্রতিকার পেতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বাংলাদেশ আদানির এই বিদ্যুৎ বিনামূল্যে নেয় না, বরং এর জন্য নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে থাকে।

রাজনৈতিক সংযোগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঘটনাগুলোর এই ক্রমবিকাশ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে, এই সংকট কি নিছকই কারিগরি নাকি এর পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ রয়েছে? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য কোনো নথিপত্র বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করার প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার বা আদানি পাওয়ার ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে।

তা সত্ত্বেও, বিদেশি চাপ বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা যে দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি গোড্ডা কেন্দ্রের ত্রুটির সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা, মেরামতের সময়সীমা এবং এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সে বিষয়ে আদানি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *