দোকানে মেলে না ৫ টাকার পেনসিল, আকার কমেছে রাবারের
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বাড়তি দামের উত্তাপ শিক্ষা উপকরণেও লেগেছে। গত চার বছরের ব্যবধানে খাতা, কলমসহ স্টেশনারি সামগ্রীর দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। প্রায় একবছর ধরে বাড়তি দামেই বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যয়ও বেড়েছে একই হারে।
তবে উচ্চবিত্তদের মাঝে এর প্রভাব না পড়লেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে খরচ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণের ব্যয় মেটাতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে মাসিক বাজেট।
যশোর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের তৈরি খাতাসহ শিক্ষা উপকরণের দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে যে দর রয়েছে, তা প্রায় এক বছর ধরেই স্থিতিশীল। তবে গত চার বছরের ব্যবধানে খাতা, কলমসহ শিক্ষা উপকরণের দাম দেড়গুণ বেড়েছে।

স্টেশনারি ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রির দোকানগুলোতে এখন ১২৪ পৃষ্ঠার খাতা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। চার বছর আগে এই খাতার দাম ছিল ৩৫ টাকা। এক বছর আগেও এই খাতা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। অথচ চার বছর আগে এই খাতার দাম ছিল ৬৫ টাকা এবং এক বছর আগে ১০০ টাকা। একই হারে দাম বেড়ে ১৬০ পৃষ্ঠার খাতা ৬০ টাকা এবং ২০৪ পৃষ্ঠার খাতা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কোম্পানিভেদে ব্যবহারিক ৭২ পৃষ্ঠার খাতা ৮০-৯০ টাকা এবং ৯৬ পৃষ্ঠার খাতা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর আগে এই খাতা ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
৩০০ পৃষ্ঠার রেজিস্টার খাতা এখন ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এই খাতার দাম ছিল ১২০-১৪০ টাকা। ৫০০ পৃষ্ঠার খাতা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। আগে এই খাতা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হতো। একই হারে দাম বেড়ে ২০০ পৃষ্ঠার খাতা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ-৪ আকারের কাগজ প্রতি প্যাকেট (৫০০ পিস) ৬০ গ্রাম ৩১০ টাকা, ৭০ গ্রাম ৩৩০ টাকা, ৮০ গ্রাম ৪০০ টাকা এবং ১০০ গ্রাম ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগেও এই কাগজ গড়ে ১০০ টাকা করে কম দামে বিক্রি হয়েছে।

দাম বেড়েছে কলমেরও। তবে এই বৃদ্ধি পাইকারিতে বেশি প্রভাব পড়েছে। বিক্রেতারা যে কলম আগে ৪৫ টাকা ডজন কিনতেন, এখন তা ৫০ টাকা। আর ৫০ টাকার কলম ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই কলমের দাম পিস ৫-৬ টাকা। খুচরা ১০ টাকা দামের কলম বিক্রেতারা আগে কিনতেন ১০০ টাকা ডজন, এখন তা ১১০ টাকা।
পাঁচ টাকা দামের পেনসিল এখন বাজার থেকেই উঠে গেছে। ১০ টাকা দামের পেনসিলেরও পাইকারি দাম বেড়েছে। তবে রাবারের দাম একই থাকলেও কমেছে আকার। ৫ টাকা ও ১০ টাকা দামের রাবার আগের তুলনায় বেশ ছোট হয়ে গেছে। বছরখানেক আগেও যে জ্যামিতি বক্স ৬০ টাকায় কেনা যেত, এখন তার দাম ১০০ টাকা।
যশোরের স্টেশনারি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার জামে মসজিদ লেনের রয়েল স্টেশনারির স্বত্বাধিকারী সাঈদ হাসান জাগো নিউজকে জানান, গত প্রায় একবছর ধরেই কাগজ-খাতা এই দামে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দাম বেড়েছে অনেক। ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে খাতা-কলম কিনতে মাসিক ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
ময়না স্টেশনারির স্বত্বাধিকারী আহসানউল্লাহ ময়না বলেন, বাজারের সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে কাগজ-কলমের ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ফলে অনেক ক্রেতারই এখন দর-দাম করে জিনিস কিনছেন। পাশাপাশি ব্যয় সংকোচনও করার চেষ্টা করছেন।

কথা হয় শহরের মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি সড়কের কালেক্টরেট বই মার্কেটের রয়েল বুক ডিপোর বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ আল-আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাতার পাশাপাশি কলমের দামও বেড়েছে। তবে তা ডজন হিসেবে বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে প্রভাব কম পড়েছে। আর রাবারের দাম ৫-১০ টাকা থাকলেও প্রত্যেকটির আকার কমেছে।’
শহরের জিলা স্কুলে মোড়ের ফটোকপির দোকান রয়েছে হাফিজুর রহমানের। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কালি ও কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফটোকপিতে প্রভাব পড়ছে। এখন দু-এক পৃষ্ঠা ফটোকপি করলে আড়াই টাকা এবং বেশি করলে দুই টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে মূল শহরের বাইরে এই ফটোকপির দাম বেশি। শহরে খরচ খরচা মিটিয়ে (কাগজ, কালি, বিদ্যুৎ, মেশিন ব্যয়) লাভ থাকছে খুবই কম। ফলে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’
শহরের শংকরপুর এলাকার গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার। তার দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘খাতা, কলমসহ স্টেশনারি পণ্যের বাড়তি দামের কারণে অনেক হিসেব করে কেনাকাটা করতে হয়। বাজারে হুটহাট করে অনেক কিছুর দাম বাড়লেও উপার্জন তো বাড়ছে না!’
এসআর/এএসএম



