September 14, 2026

তিন মাসে ৫ হাজার নতুন কোটিপতি হিসাব, বেড়েছে আমানতও

0
og_1789395334_6aa80186176fe.jpeg


দেশের ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা ও জমার পরিমাণ উভয়ই বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। একই সময়ে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

তবে কোটিপতি হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে আমানত কমেছে। বিপরীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে- এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি।

এর আগে মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। সে হিসাবে তিন মাসে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট জমা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

কমেছে ব্যক্তির হিসাবে আমানত

কোটিপতি হিসাব বাড়লেও ব্যক্তি পর্যায়ে এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জুন শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যক্তি শ্রেণির হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

মার্চ শেষে ব্যক্তিশ্রেণির এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭১টি। তবে এসব হিসাবে মোট আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের কোটি টাকার হিসাবের এই পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংকে জমা থাকছে।

বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চ সুদহার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে যাওয়ার পরিবর্তে অর্থ ধরে রাখছে।

ফলে প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে আমানতের পরিমাণে।

অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাবে আমানত কমলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রবণতার কারণে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।

ইএআর/এমএএইচ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *