ঢাবিতে এইচআরডিএসের কমিটি, সভাপতি সৌরভ-সম্পাদক তানজিলা
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি (এইচআরডিএস) প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার জন্য কমিটি ঘোষণা করেছে। ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য ২৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কমিটিতে প্রেসিডেন্ট পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সৌরভ ইসলাম এবং জেনারেল সেক্রেটারি পদে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা হক অপরাজিতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহর সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সরোয়ার জাহান। জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মো. সাব্বিরুল ইসলাম। অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হয়েছেন তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. রাকিবুল হাসান কবির।
এছাড়া, অফিস সেক্রেটারি পদে মাটি, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের মো. তারিফ আহমেদ তুহিন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিস সেক্রেটারি পদে আরবি বিভাগের মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারার হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের তাশফিয়া তারান্নুম নূর তুশান।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি
কমিটিতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সম্পাদক পদে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের মাসুমা আক্তার মিমি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সম্পাদক পদে উর্দু বিভাগের ইমরান বিশ্বাস দায়িত্ব পেয়েছেন।
রিসার্চ সেক্রেটারি হয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রুকাইয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিসার্চ সেক্রেটারি হয়েছেন আরবি বিভাগের হাসনাত জাহান সিফাত।
এছাড়া মাইনরিটি রাইটস অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি পদে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রাহুল ত্রিপুরা, উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি পদে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ফারজানা বিনতে আঁখি, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি পদে আইন বিভাগের লুবাবা মোশলেহি এবং মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেক্রেটারি পদে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদ আদনান রনি দায়িত্ব পেয়েছেন।
ডকুমেন্টেশন সেক্রেটারি হয়েছেন উর্দু বিভাগের মো. রাইহান হোসেন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আমিনুল ইসলাম মজুমদার। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আশিক কুমার শীল। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড প্রোগ্রাম সেক্রেটারি হয়েছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের মাহরিব বিন মহসিন।
লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি পদে আইন বিভাগের অংথোয়াইগিয়া মারমা অং, ভিকটিম সাপোর্ট সেক্রেটারি পদে ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের কৌলিক আবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটিতে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে রয়েছেন ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ইফতেখার সোহান সিফাত, আরবি বিভাগের আরিফুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের মেহনাজ হোসেন মাটি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রওশন আরা আক্তার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেখ গালিব আল দ্বীন এবং আরবি বিভাগের তাওহিদুল ইসলাম।
সংগঠনটির ঢাবি শাখার প্রেসিডেন্ট মো. সৌরভ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার প্রধান কেন্দ্র। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি (এইচআরডিএস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রথম কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের এই নবগঠিত ২৮ সদস্যের কমিটি ক্যাম্পাসে মানবাধিকার সুরক্ষা, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং, সংখ্যালঘু ও নারী-শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং গবেষণাধর্মী কাজের ওপর বিশেষ জোর দেবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ভিকটিমদের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানে আমরা সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ গঠনে আমরা ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
জেনারেল সেক্রেটারি তানজিলা হক অপরাজিতা বলেন, মানবাধিকার কোনো দয়া বা সুযোগ নয়, এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সোচ্চার হওয়া এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই নবগঠিত টিমটি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীলভাবে গঠিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে আমরা শুধু প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকবো না, বরং বস্তুনিষ্ঠ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং, আইনি সহায়তা ও ভিকটিম সাপোর্ট নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবো। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আমরা নিয়মিত নানামুখী কর্মসূচি পরিচালনা করবো। একটি সচেতন, সোচ্চার ও মানবিক ক্যাম্পাস গঠনে আমরা সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।
আরটি/কেএসআর

