নিকলী হাওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। মাঝিদের হুঙ্কার আর ঢোলের তালে তালে মুখর পুরো হাওর। দূর থেকে ছুটে আসছে একের পর এক নৌকা। কে আগে যাবে, সেই প্রতিযোগিতায় মাঝিদের প্রাণপণ চেষ্টা। হাওরের দুই পাড়ে হাজারও মানুষের উচ্ছ্বাস।
এমনই উৎসবমুখর পরিবেশে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম-বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিকলী সদরের চইল্লাতি হাওরে নিকলী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল।
প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। তিন পর্বে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পানির বুক চিরে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে নৌকা। মাঝিদের বৈঠার টানে মুহূর্তেই বদলে যায় প্রতিযোগিতার দৃশ্যপট।
বড় নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন নিকলী সদর ইউনিয়নের ইসরাফিল মাঝি। বিজয়ী হিসেবে তিনি পান একটি ফ্রিজ। দ্বিতীয় হন সিংপুরের ইটকলা সর্দার গ্রুপের মজিবুল্লাহ। পুরস্কার হিসেবে তিনি পান ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।
ছোট নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় পাচলীপাড়া দল। তারা পান ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নিকলীর গোবিন্দপুরের মোবারক দল। তাদের দেওয়া হয় একটি মোবাইলফোন।
আয়োজকদের ভাষ্য, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে মিশে থাকা এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে সেই পুরোনো দিনের সংস্কৃতিকে তুলে ধরারও একটি মাধ্যম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. সাদ্দাম হোসেন সাদু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিকলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শরিফুল হক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. কফিল উদ্দিন আহমেদ, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২-এর পিপি অ্যাডভোকেট এ এম সাজ্জাদুল হক, উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহসভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ।
এসকে রাসেল/এসআর
